বিলাসবহুল গাড়ি নয়, পায়ে হেঁটেই প্রচার! এক পরিচারিকার বিধানসভা জয়ের গল্পে মজেছে নেটপাড়া

অভাবের লড়াই থেকে রাজনীতির শিখরে: আউশগ্রামের নজিরবিহীন প্রার্থী কলিতা মাঝি
রাজনীতির আঙিনায় অর্থের ঝনঝনানি আর হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভীড়ে আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানো এই সাধারণ গৃহকর্মী আজ বিধানসভার লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন। তাঁর এই প্রার্থীপদ যেমন কৌতুক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি প্রান্তিক মানুষের কাছে তৈরি করেছে এক নতুন স্বপ্নের সম্ভাবনা।
সম্পত্তির চেয়ে লড়াইয়ের জোরই মূলধন
নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, কলিতা মাঝির সম্পদ বলতে কিছুই প্রায় নেই। ব্যাংক ব্যালেন্স নেই বললেই চলে, নেই কোনো বহুমূল্য স্বর্ণালঙ্কার কিংবা নিজস্ব বড় কোনো জমি। সংসারের চাকা ঘোরাতে আজও তিনি অন্যের বাড়ির পরিচারিকার কাজ করেন, যা তিনি কোনোদিন লুকাতে চাননি। এই চূড়ান্ত অভাবী জীবনের অভিজ্ঞতাকেই তিনি এবার ভোটের প্রধান হাতিয়ার করছেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার প্রকৃত সাক্ষী হিসেবে কলিতা মাঝি ভোটারদের আবেগ ও বিশ্বাসের বড় জায়গা দখল করতে পারবেন।
এই প্রার্থীর লড়াই ক্ষমতার নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের আত্মসম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। আউশগ্রামের স্থানীয় মানুষের কাছে কলিতা এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষকে জনমানসের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার এই রাজনৈতিক কৌশল আসন্ন নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে তীব্র জল্পনা।
এক ঝলকে
- আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি পেশায় একজন গৃহকর্মী বা পরিচারিকা।
- নামমাত্র স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অধিকারী হয়েও রাজনীতির মূলস্রোতে এক লড়াকু মানসিকতা নিয়ে তিনি লড়ছেন।
- প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে সামনে রেখে বিজেপি এক বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
- অভাবী জীবন ও সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।