মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ আশঙ্কা, ভোটের আগে কেন সতর্ক তৃণমূল?

নির্বাচন ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ: নেতা-কর্মীদের সতর্কবার্তা মমতার
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র ছয় দিন বাকি। এর মধ্যেই শুক্রবার কলকাতার বিভিন্ন স্থানে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়সহ একাধিক জায়গায় একযোগে পরিচালিত এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের জনসভা থেকে তিনি একে ‘দলীয় কোণঠাসা করার চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মমতার ‘অ্যালার্ট’ ও ভোটপ্রক্রিয়া ঘিরে আশঙ্কা
নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) যন্ত্র নিয়ে কারচুপি হতে পারে। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, ভোটগ্রহণের দিন কোনো মেশিন বিকল হলে নতুন যন্ত্র স্থাপনের সময় তাতে চিপ ঢুকিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে। এছাড়া, গণনার সময় ভোটগণনাকারীদের প্রলোভিত করা বা ধীরগতিতে গণনা সম্পন্ন করার মতো কৌশল গ্রহণের বিষয়েও তিনি কর্মীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মমতার এই বক্তব্য ও আয়কর হানা নির্বাচনের উত্তাপকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তল্লাশি অভিযান ও ইভিএম সংক্রান্ত এমন মন্তব্য জনমানসে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কার্যক্রম নিয়ে এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ভোটের মাঠে কেন্দ্রীয় শক্তির প্রভাব ও বিরোধীদের মোকাবিলায় তৃণমূলের এই কড়া অবস্থান লড়াইকে আরও দ্বৈরথপূর্ণ করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া বা জনমত সমীক্ষায় বিভ্রান্ত না হয়ে তৃণমূল কর্মীদের সরাসরি মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন দলনেত্রী।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার ভোটের আগে দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী অফিসে আয়কর হানা।
- ইভিএম মেশিন ও গণনাকেন্দ্রগুলোতে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ।
- রাজনৈতিক প্রলোভন ও এজেন্সির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ।
- জনমত সমীক্ষা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত প্রচারণাকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান।