যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কি বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ!

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কি বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ!

ভারতীয় অর্থনীতি: অভ্যন্তরীণ বাজারের সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর চ্যালেঞ্জ

ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৭ সাল থেকেই দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার ক্রমশ নিম্নমুখী, যার অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অভাব। বিশ্বজুড়ে বিশ্বায়নের প্রভাব কমছে এবং নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠায় বিদেশের বাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে চাঙ্গা করাই টিকে থাকার প্রধান উপায়। কিন্তু পরিকাঠামোয় সরকারি ব্যয় বাড়িয়েও বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতির আবহে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতাকে শক্তিশালী করা ছাড়া উপায় নেই।

আঞ্চলিক উন্নয়নের সমীকরণ ও সংঘাত

দেশের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে রাজ্যগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো জনবহুল রাজ্যগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকলে দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ে, যা দেশীয় উৎপাদকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রতিযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রবাদ’ বা রাজ্যগুলোর মধ্যে উন্নয়নের রেস বা সূচক ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অনেকাংশে আসাম বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে। ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকা রাজ্যগুলোকে একই দৌড়ে শামিল করা বা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ স্থগিত রাখার মতো কঠোর নীতি জাতীয় স্বার্থে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানমূলক কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় ক্রয়ক্ষমতাকে আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রবাদের আদর্শ বজায় রেখে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। দুর্নীতি মোকাবিলা বা প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রাপ্য অর্থ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপানোর পরিবর্তে, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ প্রশস্ত করা জরুরি। কারণ, জাতীয় উন্নয়ন কোনো বিচ্ছিন্ন দৌড় নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক যাত্রাপথ, যেখানে প্রতিটি রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এক ঝলকে

  • অর্থনৈতিক অস্থিরতা: ২০১৭ সাল থেকে দেশের প্রবৃদ্ধির হার কমছে এবং বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তায় রফতানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
  • অভ্যন্তরীণ বাজারের ভূমিকা: দেশীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়, যার জন্য বৃহৎ রাজ্যগুলোর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।
  • যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো: বর্তমান ‘প্রতিযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রবাদ’ ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ সংক্রান্ত সংঘাত আঞ্চলিক উন্নয়নকে ব্যাহত করছে, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা।
  • প্রয়োজনীয় সমাধান: রাজনৈতিক সংঘাত কমিয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিটি রাজ্যের উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় অর্থনীতির মজবুত ভিত গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *