বিল পাশের প্রাক্কালে দেশের সব মহিলার দিকে তাকিয়ে আবেগী আবেদন মোদির!

লোকসভায় নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম: ঐকমত্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর
গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির প্রাক্কালে লোকসভায় ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর সংশোধনী বিল সমর্থন করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার বিকেলে এই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, কোটি কোটি মহিলা এই মুহূর্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে যে বিষয়টি বিলম্বিত হয়েছে, তা নিরসনে তিনি সব দলকে যথাযথ সংবেদনশীলতা প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাস্তবায়নের জটিলতা ও ডিলিমিটেশনের ভূমিকা
সংসদে এই বিলটি পাসের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা। এছাড়া সরকারের প্রস্তাবিত এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা সরাসরি আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জনগণনার পর ডিলিমিটেশন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত ও আইনি এসব জটিলতার কারণে ২০৩৪ সালের আগে এর বাস্তবায়ন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকা সত্ত্বেও, সরকার ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই তিনটি সংশোধনী বিল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক হওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মহিলাদের সীমিত প্রতিনিধিত্ব যে বড় একটি বাধা, তা বিলের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে। এই বিলটি কার্যকর হলে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হবে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক মতভেদ সরিয়ে এই ঐতিহাসিক বিলের পক্ষে ঐকমত্য পোষণ করে কি না।
এক ঝলকে
- লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংশোধনী বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে।
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব রাজনৈতিক দলকে ঊর্ধ্বে উঠে বিলটি সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় এই বিল ২০৩৪ সালের আগে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সুযোগ কম।
- লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সরকার ১৩১তম সংবিধান সংশোধনীসহ তিনটি বিলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।