নারী আরক্ষণে সায় থাকলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে অনড় মমতা

মহিলা সংরক্ষণ বিলের সমর্থনে তৃণমূল কংগ্রেস পাশে থাকলেও এর সঙ্গে জড়িত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ কোনোভাবেই মানা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফর সেরে ফিরে কলকাতার দমদমে এক জনসভায় তিনি কেন্দ্রের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, নারীদের সম্মানের আড়ালে অন্য কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি চরিতার্থ করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আপত্তির কারণ
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে হাতিয়ার করে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে। কিছু নির্দিষ্ট রাজ্যের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে অন্য অঞ্চলের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার যে কৌশল কেন্দ্র নিয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী সাফ জানিয়েছেন, সংরক্ষণের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
রাজ্যের সাফল্যের খতিয়ান ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে আগে থেকেই ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। বর্তমানে রাজ্য থেকে নির্বাচিত তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশই নারী, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি, নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর অপব্যবহার এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক লড়াই রাজপথে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে এই ইস্যুতে আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- তৃণমূল কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করবে, কিন্তু সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে বিরোধী রাজ্যগুলোর আসন কমিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা হতে পারে।
- পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার স্তরে ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছে।
- কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।