“সোমবারই সংসদ ডাকুন, পুরোনো বিল আনুন”; মোদী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর!

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস না হওয়ায় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শনিবার তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালে যে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মটি সব দলের সমর্থনে পাস হয়েছিল, সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক হয় তবে সোমবারই সংসদ ডেকে সেই পুরনো বিলটি কার্যকর করুক। প্রিয়াঙ্কার মতে, বর্তমান বিলটি বাতিলের মাধ্যমে আসলে গণতন্ত্র ও সংবিধানের জয় হয়েছে।
ফেডারেল কাঠামো ও ষড়যন্তের অভিযোগ
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নারী সংরক্ষণের আড়ালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনडीए সরকার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় বা ফেডারেল কাঠামো পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করেছিল। তাঁর দাবি, এই বিলটি পাস না হওয়া বিরোধী ঐক্যের জন্য একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত। প্রিয়াঙ্কা বলেন, সরকার নারীদের ব্যবহার করে আসলে আদমশুমারির পরিসংখ্যান এড়িয়ে নিজেদের সুবিধামতো সীমানা নির্ধারণ বা ‘ডেলিমিটেশন’ করার স্বাধীনতা চেয়েছিল। বিরোধীদের একজোট হওয়ার কারণেই এই ‘অগণতান্ত্রিক’ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিজেপির প্রচার ও বিরোধীদের অবস্থান
বিজেপি বর্তমানে বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে প্রচার করছে, যার জবাবে প্রিয়াঙ্কা হাতরাস, উন্নাও এবং মহিলা কুস্তিগিরদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো মহিলা সংরক্ষণের বিপক্ষে নয়, বরং তারা এসসি ও এসটি-র পাশাপাশি ওবিসি নারীদের জন্য আনুপাতিক হারে কোটা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কার মতে, সরকার নারীদের মসিহা সেজে আসলে একটি জনসংযোগ বা পিআর স্টান্ট করতে চেয়েছিল যা সাধারণ মানুষ ধরে ফেলেছে।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
মূলত লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি গত শুক্রবার ভেস্তে যায়। এর ফলে ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে আগামী দিনগুলোতে কেন্দ্র-বিপক্ষ সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলোর ভোটব্যাঙ্কেও।
এক ঝলকে
- ২০২৩ সালের পুরনো মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাসের জন্য সোমবারই সংসদ ডাকার চ্যালেঞ্জ প্রিয়াঙ্কার।
- লোকসভায় বিলটি বাতিল হওয়াকে গণতন্ত্র ও বিরোধী ঐক্যের জয় হিসেবে দেখছে কংগ্রেস।
- সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি কোটা নিশ্চিত করার দাবিতে অনড় বিরোধীরা।
- বিল পাসের আড়ালে সরকারের বিরুদ্ধে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার ও ডিলিমিটেশন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ।