রাশিয়া নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ইউ-টার্ন, স্বস্তিতে ভারত

রাশিয়া নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ইউ-টার্ন, স্বস্তিতে ভারত

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা থেকে হঠাৎ সরে এল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিলেও, শেষ পর্যন্ত ভারতকে স্বস্তি দিয়ে এক মাসের বিশেষ সুযোগ দিল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল বা তার আগে লোড করা রুশ জ্বালানি তেল কোনো বাধা ছাড়াই ১৬ মে পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারবে আমদানিকারক দেশগুলো।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের নেপথ্য কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ওয়াশিংটন এই ‘মধ্যপন্থা’ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে রাশিয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও ইরানের ওপর চাপের নীতি আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভারতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে ভারত। নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেলের অর্ডার দিয়েছে। এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে রিলায়েন্সের মতো বড় বড় ভারতীয় সংস্থাগুলো রুশ তেলের বিষয়ে যে দ্বিধায় ছিল, এই ৩০ দিনের সময়সীমা তাদের জন্য বড় অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। মার্কিন পার্লামেন্টে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রাশিয়ার কোষাগারই সমৃদ্ধ হবে। তবে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখা ছাড়া এই মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের কাছে আর কোনো সহজ বিকল্প নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ১৬ মে পর্যন্ত বিশেষ সময়সীমা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র।
  • নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে ভারত প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল সাশ্রয়ী রুশ তেল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে।
  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ ও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি কমাতে এই পদক্ষেপ।
  • রাশিয়াকে ছাড় দিলেও ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর কড়াকড়ি বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *