আকাশে ইজরায়েলি হামলার ছক রুখে দিল পাকিস্তান

ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তেহরান ফেরার পথে ইরানের প্রতিনিধি দলের বিমানকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে ইজরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানটিকে প্রায় দুই ডজন পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান দিয়ে কড়া পাহারায় রাখা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাশে ওত পেতে থাকা সম্ভাব্য ইজরায়েলি ‘মৃত্যুবাণ’ থেকে ইরানি প্রতিনিধিদের রক্ষা করতেই এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল ইসলামাবাদ।
আকাশে কড়া প্রহরা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি
শুধুমাত্র যুদ্ধবিমান দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি পাকিস্তান, পুরো যাত্রাপথে আকাশপথে নজরদারির জন্য ‘এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ বা অ্যাওয়াকস (AWACS) ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, ইজরায়েলি সেনারা মাঝআকাশেই ইরানের বিমানটি ধ্বংস করার গোপন ষড়যন্ত্র করেছিল। এই বিপদ আঁচ করতে পেরে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমায় ইরানি বিমানটিকে আক্ষরিক অর্থেই একটি দুর্ভেদ্য ঢালে মুড়ে দেয়। পাক আধিকারিকদের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্যর্থ শান্তি বৈঠক ও যুদ্ধের মেঘ
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক চললেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার মাঝেই আগামী ২১ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ইজরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরানের প্রতিনিধি দলের বিমানকে পাহারা দেয় ২৪টি পাক যুদ্ধবিমান।
- আকাশপথে সম্ভাব্য হামলা রুখতে পাকিস্তান উন্নত ‘অ্যাওয়াকস’ নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
- মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
- আগামী ২০ এপ্রিল ইসলামাবাদে পুনরায় দ্বিতীয় দফার সংকটকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।