৮০০ ফুট খাদে বাস, শিক্ষক-শিশুসহ মৃত ৯!

৮০০ ফুট খাদে বাস, শিক্ষক-শিশুসহ মৃত ৯!

কেরলের মালাপ্পুরম জেলার নরিপট্টু সরকারি স্কুলের একদল শিক্ষক ও কর্মী ওয়ালপারাই ভ্রমণে এসে চরম ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন। ফেরার পথে তাঁদের বহনকারী ভ্যানটি ১৩ নম্বর হেয়ারপিন বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৮০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ১২ বছরের এক কিশোর ও সাতজন শিক্ষকসহ মোট ৯ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। ভ্যানটি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে গড়াতে গড়াতে ৯ নম্বর বাঁকে এসে আটকে না গেলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ ও উদ্ধার অভিযান

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, ৯ নম্বর বাঁকের পর ভূখণ্ডটি অত্যন্ত খাড়া এবং পাথুরে হওয়ায় গাড়িটি সেখানে না থামলে নিচে থাকা ঘন জঙ্গলে উদ্ধারকাজ চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়ত। বর্তমানে আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোয়েম্বাটুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় ‘ইঞ্জিন ব্রেকিং’ ব্যবহার না করে কেবল সাধারণ ব্রেক বা ক্লাচের ওপর নির্ভর করা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

পাহাড়ি পথে সতর্কতার গুরুত্ব

ওয়ালপারাই বা উটির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটে যাতায়াতের সময় পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা। পাহাড়ি পথে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলে চালকদের অসতর্কতা বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনে। বিশেষ করে ঢাল নামার সময় গিয়ার নিউট্রাল না রাখা এবং প্রতিটি বাঁকে হর্ন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি পর্যটকদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা, যেখানে সামান্য যান্ত্রিক অবহেলা বা চালকের ভুল আস্ত একটি ভ্রমণ দলকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে।

এক ঝলকে

  • তামিলনাড়ুর ওয়ালপারাই ঘাটে পর্যটকবাহী ভ্যান খাদে পড়ে ৯ জনের মৃত্যু।
  • নিহতদের মধ্যে ৭ জন শিক্ষক এবং একজন ১২ বছরের কিশোর রয়েছেন।
  • গাড়িটি ১৩ নম্বর হেয়ারপিন বাঁক থেকে পড়ে ৯ নম্বর বাঁকে আটকে যায়।
  • অতিরিক্ত গতি বা ব্রেক ফেল হওয়ার সম্ভাবনাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *