“মা-বোনদের কাছে ক্ষমা চাইছি”, বিল না মেলায় ভারাক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী; নিশানায় কংগ্রেস-তৃণমূল

লোকসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হতে না পারায় দেশবাসীর কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণের শুরুতেই দেশের নারীশক্তির কাছে এই ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে এই পরিস্থিতির জন্য কংগ্রেস ও তৃণমূলসহ বিরোধী দলগুলোর “স্বার্থপর” রাজনীতিকে দায়ী করেছেন তিনি।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে স্বার্থপরতার অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে-র মতো রাজনৈতিক দলগুলোকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর অভিযোগ, পরিবারতন্ত্রে নিমজ্জিত এই দলগুলো বিলটি পাস না হওয়ার পর লোকসভায় উল্লাস প্রকাশ করেছে। মোদী দাবি করেন, বিরোধীদের এই আচরণই প্রমাণ করে যে তারা নারীর ক্ষমতায়নের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বড় করে দেখে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
মহিলা সংরক্ষণ বিলের এই পতন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী এই ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে একদিকে যেমন নারী ভোটারদের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে বিল পাসের দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে তাদের নারী-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। এই সংঘাতের ফলে আগামী দিনে সংসদীয় কার্যধারায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বাতিল হয়ে গেল মহিলা সংরক্ষণ বিল।
- বিল পাস করতে না পারায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশের নারীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী।
- কংগ্রেস ও তৃণমূলসহ বিরোধী দলগুলোকে “স্বার্থপর ও পরিবারতান্ত্রিক” বলে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
- বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ায় বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদে নেতিবাচক উদযাপনের অভিযোগ তুলেছেন নরেন্দ্র মোদী।