ইন্টারনেটের অন্ধকার দুনিয়ায় ‘ধর্ষণ প্রশিক্ষণ স্কুল’! তদন্তে উঠে এলো হাড়হিম করা তথ্য

ইন্টারনেটের অন্ধকার দুনিয়ায় ‘ধর্ষণ প্রশিক্ষণ স্কুল’! তদন্তে উঠে এলো হাড়হিম করা তথ্য

ইন্টারনেটের অন্তরালে গড়ে ওঠা এক বিভীষিকাময় জগতের পর্দা ফাঁস করেছে সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত। ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষকে পুঁজি করে একদল অপরাধী নারীদের ওপর যৌন সহিংসতাকে ‘লাইভ’ প্রচার করার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, এই সাইটগুলো ব্যবহারকারীরা একে অপরের কাছে অত্যন্ত গর্বের সাথে ‘রেপ একাডেমি’ বা ‘ধর্ষণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সহিংসতার নীল নকশা ও লেনদেন

তদন্তে দেখা গেছে, এই গোপন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অপরাধীরা নারীদের অজান্তে মাদক খাইয়ে অবশ করা এবং আক্রমণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করে তার বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। ‘স্লিপ লিকুইড’ বা চেতনানাশক তরল বিক্রির একটি বিশাল অবৈধ বাজারও এই সাইটগুলোর ছত্রছায়ায় ফুলেফেঁপে উঠেছে। কেবল গত ফেব্রুয়ারি মাসেই এই ধরণের সাইটগুলোতে ৬ কোটির বেশি বার ভিজিট করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি সীমাবদ্ধতা ও ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ

ফ্রান্সের ডোমিনিক পেলিকোটের কুখ্যাত মামলার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এই অপরাধের জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি সাইট বন্ধ করলে দ্রুতই তা নতুন নামে ও ডিজিটাল রূপে আত্মপ্রকাশ করছে। অপরাধীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করা আন্তর্জাতিক পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ডিজিটাল অন্ধকার দমনে কঠোর সাইবার আইন ও উন্নত প্রযুক্তিগত নজরদারির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • ডার্ক ওয়েবে নারীদের ওপর নির্যাতনের লাইভ প্রচারের জন্য ‘রেপ একাডেমি’ নামের সাইটগুলোর অস্তিত্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
  • অপরাধীরা নারীদের চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অবশ করার পরিকল্পনা এবং অবৈধ বাণিজ্যের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।
  • সিএনএন-এর তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতেই এই ভয়ঙ্কর সাইটগুলো ৬২ মিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে।
  • লেনদেনের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের কারণে অপরাধীদের ধরা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *