“ক্ষমতা যাচ্ছে বুঝেই ভণ্ডামি করছেন, সাহস থাকলে সংসদে এসে কথা বলুন”: মোদীকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার
মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘ভীরুতা’ ও ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, সরকারি মাধ্যমে প্রচার না করে প্রধানমন্ত্রী যেন সংসদকক্ষে দাঁড়িয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনা ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস দেখান।
ভাষণের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিল পাশ না হওয়ার জন্য তৃণমূল ও কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটকে দায়ী করে বিষয়টিকে ‘ভ্রূণহত্যার সমতুল্য পাপ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যদি নারী সংরক্ষণে সত্যিই আন্তরিক হতো, তবে ২০২৩ সালে বিল পাশের পর কেন তিন বছর অপেক্ষা করা হলো? পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনের মুখে হঠাৎ এই তৎপরতা এবং বিলের সাথে ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ জুড়ে দেওয়াকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাতের অভিযোগ
তৃণমূল নেত্রীর মতে, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসলে গ্যারিমান্ডারিং বা নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচনী এলাকা বিন্যাস করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে কেন্দ্র। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধান পরিবর্তন বা দেশকে বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তৃণমূল রুখে দাঁড়াবে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে দাবি করেছেন তিনি।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানোকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি।
- নির্বাচনের মুখে তড়িঘড়ি বিল আনা এবং ডিলিমিটেশন যুক্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন।
- সরকারি প্রচার মাধ্যমের বদলে সংসদে এসে প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি করা উচিত বলে চ্যালেঞ্জ।