মাতা বৈষ্ণোদেবীর রুপোর দানে ভয়ংকর জালিয়াতি! ৫২০ কোটির লোকসান, মিশে আছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী ধাতু

জম্মু-কাশ্মীরের মাতা বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া রুপোর দানে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির তথ্য। মন্দির বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ টন ওজনের রুপোর সামগ্রী সরকারি মিন্টে (টাকশাল) পাঠানো হয়েছিল গলিয়ে আসল রুপো বের করার জন্য। কিন্তু টাকশালের পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেই বিশাল পরিমাণ ধাতুর স্তূপের মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ প্রকৃত রুপো। এর ফলে বোর্ড যেখানে ৫৫০ কোটি টাকা আয়ের আশা করেছিল, সেখানে মাত্র ৩০ কোটি টাকার রুপো মেলায় লোকসানের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫২০ কোটি টাকা।
বিষাক্ত ধাতুর সংমিশ্রণ ও ক্যানসারের ঝুঁকি
তদন্তে দেখা গেছে, কাটরা ও যাত্রাপথের স্থানীয় দোকানগুলো থেকে ভক্তরা যে রুপোর ছত্র, কয়েন বা অলঙ্কার কেনেন, সেগুলোর অধিকাংশই ভেজাল। এই জাল রুপো তৈরিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘ক্যাডমিয়াম’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানুষের শরীরে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া ওজন বাড়াতে লোহা ও দস্তার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ক্যাডমিয়ামের বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় সরকারি টাকশালের কর্মীরা প্রথমে এই সামগ্রীগুলো গলাতে অস্বীকার করেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাব ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ
এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগের জায়গায় বড় আঘাত লেগেছে। স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্র রুপোর নামে বিষাক্ত সস্তা ধাতু বিক্রি করে ভক্তদের প্রতারিত করছে। এই ঘটনার পর শাইন বোর্ড ভক্তদের কেবল সরকারি অনুমোদিত দোকান থেকে সামগ্রী কেনার পরামর্শ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি রুখতে রুপোর গয়না বা মুদ্রায় বিআইএস (BIS) হলমার্ক এবং সিক্স ডিজিট এইটইউআইডি (HUID) কোড যাচাই করা বাধ্যতামূলক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ২০ টন রুপোর সামগ্রী পরীক্ষা করে মাত্র ৫-৬ শতাংশ আসল রুপো পাওয়া গেছে।
- এই জালিয়াতির ফলে বৈষ্ণো দেবী শাইন বোর্ডের লোকসান হয়েছে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা।
- রুপোর নামে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত ক্যাডমিয়াম ও লোহা-দস্তা মেশানোর প্রমাণ মিলেছে।
- ভক্তদের সুরক্ষায় কেবল বিআইএস হলমার্কযুক্ত বা বোর্ডের নিজস্ব দোকান থেকে সামগ্রী কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।