১৮ বছরের আগে জিম নয়! জানুন শরীরচর্চা শুরুর সঠিক সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম

বর্তমান সময়ে ফিট থাকার নেশায় কিশোর ও তরুণদের মধ্যে জিমের প্রতি আগ্রহ তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড বা বন্ধুদের দেখাাদেখি অনেকেই অপরিণত বয়সে বডি বিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বয়স ও সঠিক পদ্ধতি না জেনে ভারী ব্যায়াম শুরু করলে তা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পেশির গঠন পূর্ণ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত ভারোত্তলন দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে থাকে।
সঠিক বয়স ও শরীরচর্চার বিজ্ঞান
চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, জিম শুরু করার আদর্শ বয়স হলো ১৭ থেকে ১৮ বছর। এই সময়ে শরীরের হাড় ও পেশির গঠন একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়, যা ভারী ব্যায়ামের ধকল সইবার ক্ষমতা রাখে। এর চেয়ে কম বয়সীদের জন্য জিমে গিয়ে ভারোত্তলন করার চেয়ে দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা যোগব্যায়ামের মতো মুক্ত ব্যায়াম বেশি কার্যকর। এতে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় না এবং সামগ্রিক সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
সতর্কতা ও নিয়মিত অনুশীলনের প্রভাব
অল্প বয়সে অপরিকল্পিত শরীরচর্চা কেবল শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম করলে মেরুদণ্ড ও হাড়ের সংযোগস্থলে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সঠিক বয়সে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করলে পেশি মজবুত হওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকে। জিমে যাওয়ার ক্ষেত্রে কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। মনে রাখা প্রয়োজন, জিম করার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সুস্থতা, কেবল লোকদেখানো পেশিবহুল শরীর গঠন নয়।
এক ঝলকে
- জিম শুরু করার জন্য ১৭–১৮ বছর বয়সকে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- কম বয়সে ভারী ওজন তুললে হাড়ের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক শারীরিক গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
- শরীরচর্চার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরামর্শ এবং সুষম খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
- হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধসহ মানসিক অবসাদ কাটাতে সঠিক নিয়মে ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর।