ফৌজদারি মামলা থাকলেও কি সরকারি চাকরি সম্ভব, জেনে নিন আইনি জটিলতা ও প্রতিকার

ফৌজদারি মামলা থাকলেও কি সরকারি চাকরি সম্ভব, জেনে নিন আইনি জটিলতা ও প্রতিকার

সরকারি চাকরি বা পাসপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাশ্মীর পুলিশের একটি সাম্প্রতিক সার্কুলার অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি পাথর ছোড়া বা রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনে লিপ্ত থাকেন, তবে তিনি নিরাপত্তা ছাড়পত্র বা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পাবেন না। সাধারণত সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রার্থীর চরিত্র ও পূর্বের রেকর্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় প্রার্থীকে তাঁর নামে কোনো মামলা আছে কি না বা তিনি কখনো গ্রেফতার হয়েছেন কি না, তা নির্দিষ্ট ফরমে উল্লেখ করতে হয়। তথ্য গোপন করলে চাকরি হওয়ার পরেও তা বাতিলের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে।

পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও বিদেশ যাত্রায় আইনি বাধা

ভারতীয় পাসপোর্ট আইন ১৯৬৭-এর ধারা ৬(২) অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যদি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকেন, তবে পাসপোর্ট অফিসার আবেদন খারিজ করতে পারেন। এছাড়া, গত পাঁচ বছরে যদি কোনো আদালত থেকে দুই বা ততোধিক বছরের সাজা হয়ে থাকে অথবা কোনো ফৌজদারি আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকে, তবে পাসপোর্ট প্রদান করা হয় না। তবে ১৯৯৩ সালের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন থাকে এবং তিনি আদালতের বিশেষ অনুমতি পান, তবে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তাঁকে পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি প্রদান করা সম্ভব।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে চাকরিতে নিতে বাধ্য করা যায় না। ২০১৬ সালে ‘অবতার সিং বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মামলার গুরুত্ব এবং অপরাধের ধরন বিচার করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে গুরুতর বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির দরজা প্রায় বন্ধই থাকে। মূলত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থ বজায় রাখতেই এই আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এক ঝলকে

  • গুরুতর ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে সরকারি চাকরি ও পাসপোর্ট পাওয়া প্রায় আসাম্ভব।
  • পাসপোর্ট আইনের ধারা অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলা থাকলে আদালতের বিশেষ অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ।
  • নিয়োগের সময় ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করলে চাকরি বাতিলসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
  • সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রার্থীর যোগ্যতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *