জেল থেকেই চলত তোলাবাজির নেটওয়ার্ক! গ্যাংস্টার বিষ্ণোই ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আদালত

কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দায়ের করা একটি মামলায় আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধে লিপ্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ফলস্বরূপ, মকোকা (MCOCA) বা মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অফ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্টের অধীনে এই গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠিত অপরাধ ও তোলাবাজির জাল
২০২১ সালের মার্চ মাসে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্তে জানা গেছে, লরেন্স বিষ্ণোই এবং সন্দীপ ওরফে কালা জাঠেরি এই অপরাধী চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ছিল। প্রায় ২০ জন অভিযুক্তের এই বিশাল বাহিনী মূলত ব্যবসায়ী, মদের কারবারি এবং দোকানদারদের টার্গেট করে বিপুল পরিমাণ ‘প্রোটেকশন মানি’ বা তোলা আদায় করত। সংগৃহীত সেই অর্থ ব্যবহার করা হতো আধুনিক অস্ত্র ও গ্রেনেড কেনার কাজে। আদালত সাক্ষীদের বয়ান এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে একে একটি সুশৃঙ্খল অপরাধ নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
কারাগার থেকে নেটওয়ার্ক পরিচালনা
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, বিষ্ণোই এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা জেলে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের এই সাম্রাজ্য পরিচালনা করত। এমনকি চক্রের কিছু সদস্য বিদেশ থেকেও কলকাঠি নাড়ছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। জেলবন্দি থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে বিপুল অর্থের লেনদেনের হদিস পেয়েছে পুলিশ। আগামী ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হবে, যা এই দুর্ধর্ষ অপরাধী গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এক ঝলকে
- পাটিয়ালা হাউস কোর্ট লরেন্স বিষ্ণোই ও তার ২০ সহযোগীর বিরুদ্ধে মকোকা আইনে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে।
- চক্রটি মূলত ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের থেকে তোলাবাজি এবং অবৈধ অস্ত্র কারবারের সাথে যুক্ত ছিল।
- জেলখানা এবং দেশের বাইরে থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সংগঠিত অপরাধ পরিচালনা করা হতো।
- মামলার পরবর্তী শুনানি ও অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল।