ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি দোরগোড়ায়! বাড়ছে না যুদ্ধবিরতির মেয়াদ, সেনা প্রস্তুত রাখার হুঙ্কার ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে চলা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এই নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, নতুন করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই, বরং দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।
আমেরিকার কঠোর হুঁশিয়ারি ও সামরিক অবস্থান
ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে বুধবারের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে চারিদিকে কেবল ‘বোমা ফাটতে শুরু করবে’। মার্কিন সামরিক সাফল্যের দাবি করে ট্রাম্প জানান, ইতিমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শক্তি খর্ব করা হয়েছে। ফলে আলোচনার টেবিলে আমেরিকা বর্তমানে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ইরানকে একটি ‘চমৎকার চুক্তি’ মেনে নিতেই হবে।
চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের এই মনোভাবকে ‘অবরোধের রাজনীতি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, চুক্তির খসড়া প্রায় প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্পের উদ্ধত আচরণ ও মেয়াদের সময়সীমা না বাড়ানোর জেদ শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইসলামাবাদের মতে, এই আলোচনাকে কারো জয় বা পরাজয় হিসেবে দেখা হলে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
এক ঝলকে
ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ছে না বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবারের মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে সামরিক অভিযানের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘যুদ্ধ বাধানোর ছক’ বলে দাবি করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান।