মদ খেয়ে স্ত্রীকে মারধরই কাল হলো! ১ লক্ষ টাকায় সুপারি দিয়ে জামাইকে চিরতরে ‘সাফ’ করলেন শাশুড়ি

মদ খেয়ে স্ত্রীকে মারধরই কাল হলো! ১ লক্ষ টাকায় সুপারি দিয়ে জামাইকে চিরতরে ‘সাফ’ করলেন শাশুড়ি

ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গত কয়েকদিন আগে সিরগিট্টি থানা এলাকায় ২৪ বছর বয়সী সাহিল কুমার পাটলে নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার হয়। মরদেহের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা চালানো হলেও পুলিশের তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ পারিবারিক প্রতিহিংসার কাহিনী। তদন্তে জানা গেছে, জামাইয়ের নিয়মিত নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারই শাশুড়ি সরোজনী খুন্টে।

মদ আর পারিবারিক কলহের মর্মান্তিক পরিণতি

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিহত সাহিল মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই তার স্ত্রী বর্ষাকে নৃশংসভাবে মারধর করতেন। স্বামীর এই অমানবিক নির্যাতনের কথা বর্ষা বারবার তার মা সরোজনীকে জানাতেন। নিজের মেয়ের কষ্টের কথা সহ্য করতে না পেরে সরোজনী চরম পথ বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। জামাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি দুই জন ভাড়াটে খুনি বা ‘সুপারি কিলার’ নিয়োগ করেন। ১ লাখ টাকার চুক্তিতে মাত্র ৮ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে তিনি সাহিলকে খুনের নির্দেশ দেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতা

প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, যা পুলিশের কাছে একটি ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে জেলা পুলিশ সুপার রজনীশ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল ঘটনার তদন্ত শুরু করে। শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং নিজস্ব সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার মূল হোতা শাশুড়ি ও স্ত্রীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ি, স্ত্রীসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা পুলিশের কাছে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এক ঝলকে

  • নিহত সাহিল কুমার পাটলে নিয়মিত মদ্যপ অবস্থায় তার স্ত্রীকে মারধর করতেন।
  • মেয়ের ওপর নির্যাতন সইতে না পেরে শাশুড়ি সরোজনী খুন্টে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে জামাইকে হত্যার সুপারি দেন।
  • বিলাসপুর পুলিশ ১০০-এর বেশি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করেছে।
  • এই ঘটনায় শাশুড়ি ও স্ত্রীসহ মোট চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *