‘যাও বাবা, টিভি দেখো গে’— ১০ বছরের ছেলেকে সরিয়েই স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী বাবা!

গুরুগ্রামের সেক্টর-৯ এলাকায় পরকীয়া সন্দেহে এক ভয়াবহ পারিবারিক ট্র্যাজেডি ঘটে গিয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল রাজস্থানের অলওয়ার থেকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রী সোনমকে রান্নাঘরে অন্য কারও সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখেন তার স্বামী দীপক। স্বামীকে দেখা মাত্রই সোনম ফোন কেটে দিলে সন্দেহের দানা বাঁধে। এরপর ফোন দেখা নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে চরম সহিংসতায় রূপ নেয় এবং দীপক তার স্ত্রীর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ড ও করুণ পরিণতি
স্ত্রীকে হত্যার পর দীপক নিজেও সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার সময় এই দম্পতির ১০ বছর বয়সী ছেলে বাড়িতেই ছিল; তবে তাকে অন্য ঘরে পাঠিয়ে টেলিভিশন দেখতে বলেছিলেন দীপক। সোনমের বোন বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ওই বাড়িতে পাঠালে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেঝেতে স্ত্রীর মরদেহ এবং ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর দেহ উদ্ধার করে।
বিবাদের সূত্রপাত ও প্রভাব
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, দীপক ও সোনম সাত বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। গত কয়েক মাস ধরেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোনমের ফোন রেকর্ড থেকে একটি অজ্ঞাত নম্বরে নিয়মিত ভিডিও কল ও দীর্ঘক্ষণ কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি একটি সাজানো সংসার নিমেষেই ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দম্পতির একমাত্র সন্তানকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ভিডিও কলে কথা বলা নিয়ে সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা।
- স্ত্রীকে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার।
- ঘটনার সময় ১০ বছরের সন্তানকে অন্য ঘরে টেলিভিশন দেখতে পাঠিয়েছিলেন বাবা।
- সাত বছরের প্রেমজ সম্পর্কের এই করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া।