‘বিচার না পেলে অস্থি নর্দমায় ভাসিয়ে দিও!’ সরকারি চাকরি পেতেই বদলে গেল স্ত্রীর ব্যবহার, আত্মহত্যা স্বামীর

‘বিচার না পেলে অস্থি নর্দমায় ভাসিয়ে দিও!’ সরকারি চাকরি পেতেই বদলে গেল স্ত্রীর ব্যবহার, আত্মহত্যা স্বামীর

উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মোহিত যাদব নামের এক ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার তাঁর স্ত্রীর মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মোহিত তাঁর যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, ছেলেদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন থাকলে হয়তো আজ তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে হতো না।

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিবাদ

পেশায় ইঞ্জিনিয়ার মোহিতের সঙ্গে প্রিয়ার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের পর সবকিছু ঠিকঠাক চললেও গোলমালের সূত্রপাত হয় প্রিয়া বিহারের সমস্তিপুরে প্রাথমিক শিক্ষিকার চাকরি পাওয়ার পর। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাওয়ার পর থেকেই প্রিয়ার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তিনি মোহিতকে তাঁর পরিবারের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবি জানান। সম্পত্তি না লিখলে যৌতুকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হতো বলে ভিডিওতে দাবি করেছেন মোহিত।

আইনি জটিলতা ও করুন পরিণতি

ভিডিও বার্তায় মোহিত আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রেখেছিলেন। এমনকি তাঁর অজান্তেই গর্ভপাত করানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তিনি করেছেন। বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে মোহিত শেষ অনুরোধে বলেন, যদি তিনি বিচার না পান তবে তাঁর অস্থি যেন গঙ্গায় নয়, বরং কোনো নালায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ইটাওয়ার একটি হোটেলের ঘর থেকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের পর বিয়ে করলেও সরকারি চাকরি পাওয়ার পর স্ত্রীর আচরণ বদলে যাওয়ার অভিযোগ।
  • পৈতৃক সম্পত্তি লিখে দেওয়া এবং যৌতুকের মিথ্যা মামলার হুমকির কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন যুবক।
  • মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে বিচার দাবি করেছেন মোহিত যাদব।
  • হোটেলের ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা এবং পুলিশের তদন্ত শুরু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *