‘আম্মা বাইরে আসুন বিয়ের কার্ড দেব’! দরজা খুলতেই বৃদ্ধার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল মাথা, নাতনির আর্তনাদ

‘আম্মা বাইরে আসুন বিয়ের কার্ড দেব’! দরজা খুলতেই বৃদ্ধার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল মাথা, নাতনির আর্তনাদ

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার ডেহরওয়ারা গ্রামে এক শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র দেওয়ার অজুহাতে এসে রামসখী ধাকড় নামে এক বৃদ্ধাকে তাঁর ১৩ বছর বয়সী নাতনির সামনেই গুলি করে খুন করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা প্রথমে অত্যন্ত বিনয় দেখিয়ে বৃদ্ধার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে এবং পরক্ষণেই তাঁর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রিগার টিপে দেয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জমি নিয়ে বিবাদের ভয়ংকর পরিণতি

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের মূলে রয়েছে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদ। জানা গেছে, মৃতার স্বামী লক্ষ্মী নারায়ণ ধাকড়ের মৃত্যুর পর তাঁর ৩৫ বিঘা জমি প্রথম পক্ষের সন্তান ও রামসখীর মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। রামসখী তাঁর অংশের জমি নিজের ছেলের নামে লিখে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেই সওদাগর ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, নামান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল তাঁর সৎ ছেলেরা।

নাতনির সামনেই চরম নিষ্ঠুরতা

প্রত্যক্ষদর্শী নাতনি রাধিকা জানায়, তিনজন যুবক বাইকে করে এসে ‘আম্মা দরজা খোলো, বিয়ের কার্ড দেব’ বলে চিৎকার করতে থাকে। দরজা খোলার পরপরই একজন যুবক নিচু হয়ে দাদিকে প্রণাম করে এবং চোখের পলকে পিস্তল বের করে কপালে গুলি চালিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আততায়ীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেন্ডুয়া থানা পুলিশ ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নীতু সিং ধাকড় জানিয়েছেন, পারিবারিক শত্রুতার বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। তবে ঘটনার নৃশংসতা এবং পরিকল্পিত কায়দায় খুনের ধরণ দেখে স্তম্ভিত খোদ তদন্তকারী অফিসাররাও।

এক ঝলকে

  • মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে বিয়ের নিমন্ত্রণ দেওয়ার অছিলায় বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা।
  • খুনের আগে পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আস্থা অর্জন করেছিল ঘাতকরা।
  • ৩৫ বিঘা জমি ভাগাভাগি ও মালিকানা নিয়ে সৎ সন্তানদের সঙ্গে বিবাদ ছিল দীর্ঘদিনের।
  • ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ১৩ বছরের নাতনি পুরো হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *