পরিবর্তনের জোয়ার স্পষ্ট, বাংলা থেকে বিদায় নিচ্ছে টিএমসির ‘মহা জঙ্গলরাজ’: জলহাটির সভায় হুঙ্কার মোদীর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তর ২৪ পরগনার দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জলহাটিতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার বিপুল ভোটদান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাজ্যে পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হয়ে গিয়েছে। মোদীর মতে, এই নির্বাচন আসলে তৃণমূলের ‘মহা জঙ্গলরাজ’ এবং ‘একনায়কতন্ত্র’ শেষ করার লড়াই, যেখানে সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মন্দির পুনর্নিমাণের কাজ শুরু করেছেন।
তৃণমূলের বিদায় ও বিজেপির উত্থান
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রথম দফায় প্রায় ৯২ শতাংশ ভোটদান প্রমাণ করে যে মানুষ আর তৃণমূলের শাসনে সন্তুষ্ট নন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম দফার পরাজয় আঁচ করতে পেরে তৃণমূল নেতৃত্ব ভীত হয়ে পড়েছেন এবং ভোটারদের ভয় দেখাতে সন্ত্রাসীদের কাজে লাগাচ্ছেন। মোদী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হবে এবং তখন তৃণমূলের কোনো দুষ্কৃতী রেহাই পাবে না। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ যে ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’ স্লোগানকে আপন করে নিয়েছেন, তাও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীবিরোধী শাসনের অবসান ও নতুন বিপ্লবের ডাক
বক্তৃতায় সন্দেশখালি এবং আরজি কর হাসপাতালের ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলকে ‘নারীবিোধী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, বিজেপি নির্যাতিতাদের প্রতিনিধি হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে, যার উদাহরণ আরজি করের নির্যাতিতার মা এবং সন্দেশখালির লড়াইয়ের মুখ হিসেবে মনোনীত প্রার্থীরা। রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একদা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র বাংলা আজ পরিযায়ী শ্রমিক তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে এক নতুন বিপ্লবের ডাক দিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনে অগ্রাধিকার দেবে।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার ৯২ শতাংশ ভোটদানকে পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ মোকাবিলায় ৪ঠা মে-র পর কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি।
- আরজি কর ও সন্দেশখালির মতো ঘটনায় নির্যাতিতাদের প্রার্থীদের প্রতিনিধি করে নারীর অধিকার রক্ষার বার্তা।
- শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ।