সিইসি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধী দলগুলি: রাজ্যসভায় পেশ নতুন নোটিশ, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর তোড়জোড়!

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনীতি। গত ১৫ মার্চ এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার রাজ্যসভায় নতুন করে নোটিশ দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, ৭৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর সংবলিত এই নোটিশটি ইতিমধ্যে রাজ্যসভার মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩২৪(৫) ও ১২৪(৪) ধারা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের অধীনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
ব্যর্থতার পর পুনরায় জোটবদ্ধ বিরোধী শিবির
এর আগে গত ১২ মার্চও বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। সেই সময় ১৯৩ জন সাংসদ তাকে অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব আনলেও গত ৬ এপ্রিল লোকসভার স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তা খারিজ করে দেন। বিরোধীদের আনা অসদাচরণের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই—এই যুক্তি দেখিয়ে তখন আবেদনটি নাকচ করা হয়েছিল। তবে এবার নতুন নোটিশে আরও জোরালো অভিযোগ এবং বাড়তি কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে সম্মিলিত বিরোধী দলগুলো।
বিতর্কের মূলে যেসব গুরুতর অভিযোগ
নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মূলত পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম বাদ দেওয়া এবং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার মতো সাতটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের তীব্র অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। এই আইনি লড়াইয়ের মূল প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতার ওপর, যা বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
ভারতের ইতিহাসে কোনো সিইসি-র বিরুদ্ধে অপসারণ প্রক্রিয়া সফল হওয়া অত্যন্ত জটিল ও নজিরবিহীন একটি বিষয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে রাজ্যসভায় ৭৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর করা নতুন নোটিশ পেশ।
পূর্ববর্তী প্রস্তাবটি প্রমাণাভাবে লোকসভা স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান খারিজ করে দিয়েছিলেন।
বিরোধীদের মূল অভিযোগ—নির্বাচনী কারচুপি বন্ধে ব্যর্থতা, পক্ষপাতিত্ব এবং ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়ম।