নির্বাচন কমিশনের ট্রাবল মেকার তালিকায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে তৃণমূল!

নির্বাচন কমিশনের ট্রাবল মেকার তালিকায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে তৃণমূল!

রাজ্য রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে প্রথম দফার ভোট মিটতেই বড়সড় আইনি স্বস্তি পেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষকের দেওয়া প্রায় ৮০০ জনের একটি বিতর্কিত তালিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ঢালাওভাবে কাউকে ‘গোলমাল সৃষ্টিকারী’ তকমা দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে।

মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

কমিশনের পক্ষ থেকে ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তাদের বহু সক্রিয় কর্মীকে এই তালিকায় ঢুকিয়ে এলাকাছাড়া করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নির্দেশিকার কার্যকারিতা স্থগিত করেছে। একইসঙ্গে, এই তালিকার আইনি ভিত্তি ঠিক কী, তা স্পষ্ট করতে কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক চাপ

আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভোটের মাঝপথে নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ তুলছিলেন, এই রায়ের ফলে সেই দাবি রাজনৈতিকভাবে নতুন মাত্রা পেল। অন্যদিকে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে নেওয়া কমিশনের এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ আইনি বাধার মুখে পড়ায় বাকি দফার ভোট পরিচালনার কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এক ঝলকে

  • পুলিশ পর্যবেক্ষকের তৈরি করা ৮০০ জনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকার ওপর স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট।
  • আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র এই তালিকার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার বা এলাকাছাড়া করা যাবে না।
  • কেন এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ।
  • আইনি এই রায়ের ফলে ভোটের ময়দানে বড়সড় রাজনৈতিক স্বস্তি পেল শাসক শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *