ভোটের মুখে বাংলায় ইডি-র ম্যারাথন তল্লাশি, রেশন কাণ্ডে হাবড়া ও বর্ধমান সহ ৯ জায়গায় হানা!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া, কলকাতা ও বর্ধমানের মোট ৯টি স্থানে একযোগে তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। বিশেষ করে হাবড়ার চাল ব্যবসায়ী সমীর চন্দ্রের বাড়ি ও অফিস ঘিরে ফেলে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতির নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র
ইডির দাবি, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের গম ও চাল সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর বদলে তা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির একটি সুশৃঙ্খল চক্র গড়ে তোলা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, অসাধু ব্যবসায়ী ও সপ্লাইয়াররা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অত্যন্ত কম দামে পিডিএস (PDS) সামগ্রী সংগ্রহ করত। এরপর ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এফসিআই) বা রাজ্য সরকারের সিলযুক্ত আসল বস্তা বদলে ফেলে তা সাধারণ বাণিজ্যিক স্টক হিসেবে বিদেশে রপ্তানি বা খোলা বাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক যোগসূত্র ও তদন্তের উৎস
হাবড়া কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ছেন তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি এই একই রেশন দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেলবন্দি। ইডির এই অভিযান মূলত ২০২০ সালে বসিরহাট থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে রয়েছেন নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, সুশান্ত সাহা এবং পার্থ সাহার মতো একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও তাদের রপ্তানি সংস্থা। এই তল্লাশির মাধ্যমে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের গন্তব্য বা ‘মানি ট্রেইল’ খুঁজে বের করাই এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মোট ৯টি স্থানে ইডির তল্লাশি এবং মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত জোরদার।
- পিডিএস-এর চাল ও গম বস্তা বদলে খোলা বাজারে পাচার করে বিপুল অর্থ আয়ের অভিযোগ।
- উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান ও কলকাতার বড় রপ্তানিকারক ও চাল ব্যবসায়ীরা ইডির নজরে।
- ২০২০ সালের পুলিশি অভিযোগ ও পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে এই সাঁড়াশি অভিযান।