সব বেচে ভারতে ঠাঁই! ৫১ বছরের আমেরিকানের চোখে বেঙ্গালুরু যেন এক ‘ডোপামিন ইনজেকশন’

আমেরিকার জাঁকজমকপূর্ণ জীবন ও কোটি টাকার ব্যবসা ছেড়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্থায়ী হয়েছেন ৫১ বছর বয়সী লেన్ কুক। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এক ভারতীয় নারীকে বিয়ে করে সুখে সংসার করলেও পেশাগত চাপের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে নিজের জীবনধারা পাল্টে নতুন করে বাঁচার তাগিদে তিনি আমেরিকার স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে সপরিবারে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন।
পাশ্চাত্য বলয় থেকে বেঙ্গালুরুতে থিতু হওয়া
লেন কুক মনে করেন, পাশ্চাত্য মিডিয়া ও কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ভারতের নেতিবাচক এবং কেবল দারিদ্র্যপীড়িত ছবি বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে এসে তিনি শহরের আধুনিকতা ও পরিচ্ছন্নতায় মুগ্ধ হয়েছেন। তার মতে, ভারতে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার এবং দেখার সুযোগ রয়েছে, যা একঘেয়ে পাশ্চাত্য জীবনধারার চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও উদ্দীপনামূলক।
ডোপামিন ইনজেকশন ও নতুন অভিজ্ঞতা
নিজের এডিএইচডি (ADHD) সমস্যার কথা উল্লেখ করে লেন কুক জানান, আমেরিকার নিস্তব্ধ ও বৈচিত্র্যহীন জীবন তার কাছে ক্লান্তিকর মনে হতো। সেই তুলনায় ভারতের ব্যস্ততা ও প্রাণচঞ্চলতা তার জন্য ‘ডোপামিন ইনজেকশন’-এর মতো কাজ করে। এখানকার বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস ও মানুষের আন্তরিকতা তাকে ধৈর্যশীল হতে শিখিয়েছে, যা তার আগের কর্পোরেট জীবনে অনুপস্থিত ছিল।
এই রূপান্তরের ফলে কুক কেবল সুস্থ জীবনই খুঁজে পাননি, বরং ভারতের সত্যিকারের সমৃদ্ধি সম্পর্কে বাইরের বিশ্বের ভুল ধারণাগুলো ভাঙার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। বেঙ্গালুরু এখন তার কাছে কেবল বসবাসের জায়গা নয়, বরং এক নতুন উদ্দীপনার নাম।
এক ঝলকে
- ৫১ বছর বয়সী আমেরিকান ব্যবসায়ী লেন কুক আমেরিকার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে স্থায়ী হয়েছেন।
- কোটি টাকার ব্যবসার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং নতুন করে জীবন উপভোগ করতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- পাশ্চাত্যের প্রচার করা ভারতের দারিদ্র্য ও নোংরা পরিবেশের ধারণাকে তিনি ভুল ও একপাক্ষিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের প্রাণচঞ্চল জীবনধারাকে তিনি মানসিক প্রশান্তি ও উৎসাহের বড় উৎস হিসেবে মনে করেন।