সাঁজোয়া গাড়ির মহড়া আর নজিরবিহীন নিরাপত্তা! শেষ দফার ভোটে রণসজ্জায় নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজ্যকে। প্রথম দফার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে ১৪২টি আসনেই ‘১০০ শতাংশ অশান্তিমুক্ত’ ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। এবার নিরাপত্তার বহর ও কৌশলগত প্রস্তুতি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মাঠে নামছেন সিআরপিএফ প্রধান
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় মোট ২ হাজার ৩২১ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, যা প্রথম দফার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হলো খোদ সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংয়ের সশরীরে উপস্থিতি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি সরাসরি গ্রাউন্ড জিরোতে নামছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সারিবদ্ধ সাঁজোয়া গাড়ি বা আর্মার্ড ভেহিকলের উপস্থিতি ভোটারদের মনে নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও, এই অতি-তৎপরতা জনমনে এক ধরণের চাঞ্চল্যও তৈরি করেছে।
রাস্তা থেকে বুথ সিসিটিভি নজরদারি
কমিশনের লক্ষ্য এবার কেবল বুথের ভেতরের নিরাপত্তা নয়, বরং ভোটারদের বাড়ি থেকে বুথে পৌঁছানোর পথটুকুও সুরক্ষিত রাখা। এর জন্য রাস্তাঘাটে সিসিটিভি ক্যামেরার কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট হয়েছে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে হওয়া সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে। দিল্লির সদর দপ্তর থেকেও পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত বাহিনী ও ভারী সমরসম্ভারের ব্যবহার মূলত ভোটারদের ভয়মুক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একপক্ষ একে শান্তির গ্যারান্টি হিসেবে দেখছে, অন্যপক্ষ একে অতি-সক্রিয়তা হিসেবে গণ্য করছে। শেষ পর্যন্ত এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের দিন বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে রেকর্ড ২ হাজার ৩২১ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে।
- ইতিহাসে প্রথমবার পরিস্থিতি তদারকি করতে সরাসরি গ্রাউন্ড জিরোতে নামছেন সিআরপিএফ প্রধান।
- নিরাপত্তার স্বার্থে বুথের পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তায় থাকছে ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ও সাঁজোয়া গাড়ি।
- অশান্তিমুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় নির্বাচন কমিশন।