ভোটের হাওয়ায় পর্যটনে খরা, খাঁ খাঁ করছে পাহাড় ও ডুয়ার্সের হোটেল!

পাহাড়ের বসন্তের ফুরফুরে হাওয়া এবার যেন এক অজানা আশঙ্কায় ভারী হয়ে উঠেছে। বছরের এই সময়ে দার্জিলিং, কালিম্পং বা সিকিমের হোটেলগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কিন্তু বর্তমান চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। লোকসভা নির্বাচনের ডামাডোলে পাহাড় ও ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পে এক নজিরবিহীন মন্দা দেখা দিয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেলের ঘর ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যা পর্যটন ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ভয়
ব্যবসায়ীদের মতে, নির্বাচনের সময় যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। দূরপাল্লার ট্রেন বা গাড়ির সহজলভ্যতা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিতে চেয়ে অধিকাংশ পর্যটকই তাদের আগে থেকে করা বুকিং বাতিল করছেন। আবার অনেকে ভোটের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখছেন।
ভরা মরশুমে বড় ধাক্কা
পরিসংখ্যান বলছে, এই ভরা মরশুমে পাহাড়ের হোটেলগুলোতে বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাভাবিক সময়ে এপ্রিলের শেষে যেখানে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এবার অনেক রিসোর্ট ও হোম-স্টে প্রায় জনশূন্য। পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল গাড়ি চালক থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী—সবার রোজগারই এখন তলানিতে। নির্বাচনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট মন্দা পাহাড়ের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের নিরাপত্তা ও যাতায়াত বিধিনিষেধের ভয়ে পর্যটকরা পাহাড় ভ্রমণে অনীহা দেখাচ্ছেন।
- দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের হোটেলগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশে।
- মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেলের বুকিং বাতিল হয়েছে।
- ভরা মরশুমে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামায় পাহাড়ের অর্থনীতি সংকটের মুখে।