ডেটিং দুনিয়ায় নতুন মন্ত্র ‘ডেলুলু’! এটি কি নেহাতই অলীক কল্পনা নাকি ইতিবাচক থাকার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল?

ডেটিং দুনিয়ায় নতুন মন্ত্র ‘ডেলুলু’! এটি কি নেহাতই অলীক কল্পনা নাকি ইতিবাচক থাকার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল?

আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান, ‘ঘোস্টিং’ এবং ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের ভিড়ে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এই মানসিক ক্লান্তি বা ‘ডেটিং ফ্যাটিগ’ কাটাতে নেটদুনিয়ায় এখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে একটি নতুন শব্দ— ‘ডেলুলু’ (Delulu)। শুনতে মজার মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।

কী এই ‘ডেলুলু’ এবং ‘ডেলুলু ডেটিং’?

‘ডেলুলু’ শব্দের উৎপত্তি ইংরেজি শব্দ ‘Delusional’ বা বিভ্রান্তি থেকে। তবে বর্তমান ডেটিং কালচারে এটি নেতিবাচক নয়, বরং বেশ কৌতুকপূর্ণ ও ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। ‘Delulu is the solulu’ অর্থাৎ ভ্রান্ত আশাই নিজেকে ইতিবাচক রাখার নতুন কৌশল— এই স্লোগানটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে ডেটিং ফ্যাটিগ কাটানোর নতুন হাতিয়ার। একাধিক প্রেমের সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতার পর মানুষ সাধারণত নিজের চারপাশে এক কঠিন দেওয়াল তুলে দেয়। কিন্তু ‘ডেলুলু ডেটিং’ মানুষকে শেখায়, পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও একটু ভালো কিছুর আশা রাখতে। এই অগোছালো পরিস্থিতির মধ্যেও দারুণ কিছু অপেক্ষা করছে— নিজেকে এই বিশ্বাস করানোই হল ডেলুলু ডেটিং।

মনোবিদরা কী বলছেন?

মনোবিদদের মতে, সম্পর্কে আশাবাদ অবশ্যই দরকার, কিন্তু তা যেন অন্ধ না হয়। ভালোবাসার মোহে সারাক্ষণ চোখে গোলাপি চশমা (Rose-tinted glasses) পরে থাকলে, সম্পর্কের বিপদের লাল সংকেত বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ (Red Flags) বোঝা যায় না। তাই ‘ডেলুলু’ হওয়ার অর্থ বাস্তবকে অস্বীকার করা নয়, বরং বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন থেকেও মনে ইতিবাচক আশা বাঁচিয়ে রাখা।

সুস্থ আশাবাদ বনাম বিভ্রান্তি: পার্থক্য কোথায়?

  • প্যাটার্ন বোঝা: কেউ যদি বারবার সঙ্গীর খারাপ ব্যবহার বা অবহেলা উপেক্ষা করেন, তবে তা ‘ডেলুলু’ নয়, বরং বাস্তবকে অস্বীকার করা বা ডিনায়াল (Denial)।
  • দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্টতা: সুস্থ আশাবাদ আপনাকে শান্ত রাখে। আপনি কাউকে পছন্দ করতে পারেন, কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর ত্রুটিগুলোও আপনার চোখে পড়বে।
  • ব্যক্তিপূজা থেকে বিরত থাকা: কাউকে দেবতুল্য বা একদম নিখুঁত ভাবা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানুষ হিসেবে তাঁর ভালো ও মন্দ— উভয় দিকই মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি।

কীভাবে নিজেকে সামলাবেন?

সম্পর্কে নিজের চাহিদা, সীমাবদ্ধতা এবং প্যাটার্ন সম্পর্কে সচেতন থাকলে অন্যদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা অনেক সহজ হয়। আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি মাটির কাছাকাছি থাকাই হলো মানসিক স্থিতিস্থাপকতা বা রেজিলিয়েন্স (Resilience)-এর আসল চাবিকাঠি।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *