সন্দেহ, খুন আর সিল করা কাঠের বাক্স! বেকার স্বামীর চিরকুটে উদ্ধার স্ত্রীর পচাগলা দেহ

সুরাটে এক শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। বেকার স্বামীর সন্দেহ এবং পারিবারিক অশান্তির জেরে খুন হতে হল এক প্রতিষ্ঠিত ডায়েটিশিয়ান স্ত্রীকে। খুনের পর স্ত্রীর মৃতদেহ কাঠের বাক্সে ভরে সিমেন্ট ও ফোম দিয়ে সিল করে দেয় স্বামী। একটি নিখোঁজ ডায়েরি এবং একটি চিরকুটের সূত্র ধরে পুলিশ এই নৃশংস খুনের কিনারা করেছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে।
নিখোঁজ ডায়েরি এবং ছেলের পাওয়া চিরকুট
সুরাট পুলিশের ডিসিপি কানন দেশাই জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে ৪০ বছর বয়সী বিশাল তার ৩৯ বছর বয়সী স্ত্রী শিল্পা সালভির নামে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করে। তার দাবি ছিল, চার দিন ধরে স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার মাত্র দু’দিন পরেই বিশাল নিজেও বেপাত্তা হয়ে যায়। এরপর তাদের নাবালক ছেলে বাড়িতে একটি চিরকুট খুঁজে পায় এবং তা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সেই চিরকুটেই লুকিয়ে ছিল এই হাড়হিম করা অপরাধের স্বীকারোক্তি।
কাঠের বাক্সে সিমেন্টের প্রলেপ!
চিরকুটে বিশাল লিখেছিল, “আমি যে অপরাধ করেছি, তার জন্য আমি একাই দায়ী। গত ২০ এপ্রিল এই অপরাধ করেছি। তার প্রমাণ সালাবতপুরা এলাকায় আমার পৈতৃক বাড়িতে রয়েছে।” চিরকুটে ওই এলাকার একটি কাঠের বাড়ির তালাবন্ধ ঘরের কথা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা ছিল। পুলিশ সেই ঠিকানায় পৌঁছে ঘর থেকে একটি কাঠের বাক্স উদ্ধার করে, যা কাঁচা সিমেন্ট ও ফোম দিয়ে শক্ত করে সিল করা ছিল। বাক্স ভাঙতেই ভেতর থেকে উদ্ধার হয় শিল্পার পচাগলা দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চার-পাঁচ দিন আগেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল।
কেন এই নৃশংস পরিণতি?
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে বিশাল ও শিল্পার বিয়ে হয়। তাঁদের ১৩ ও ৮ বছরের দুই ছেলে রয়েছে। ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশনে এমএসসি পাশ শিল্পা সুরাট মিউনিসিপ্যাল ইনস্টিটিউটে ডায়েটিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন এবং সম্প্রতি নিজের একটি ক্লিনিকও খুলেছিলেন। অন্যদিকে, বিশাল আগে একটি হিরের কারখানায় কাজ করলেও গত কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণ কর্মহীন ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এই কর্মহীনতা থেকেই বিশালের মনে প্রবল হীনম্মন্যতা ও সন্দেহের জন্ম হয়। স্ত্রী কোনও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, এমনটা সন্দেহ করতে শুরু করে সে। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত। সন্দেহ নিরসনের জন্য বিশাল স্ত্রীর মোবাইল ফোন চেক করতে চাইলে শিল্পা রাজি হননি, যা অশান্তি চরমে পৌঁছানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিরকুটে বিশাল আরও লিখেছে, “বিয়ের প্রথম দিকটা ভালোই ছিল। কিন্তু তিন বছর পর থেকে ওর ব্যবহারে বদল এসেছিল। আমার সন্দেহ বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন সহ্য করার পরে আমি মরিয়া হয়ে এই অপরাধ করেছি।”
শিল্পার বাবা প্রদীপ কোস্তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে সুরাটের শহরতলির এক গ্রামীণ এলাকা থেকে অভিযুক্ত বিশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।