বিজেপি পর্যবেক্ষক নয়, এজেন্ট পাঠিয়েছে! অজয় পালের নিয়োগে নির্বাচন কমিশনকে তোপ অখিলেশ-তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক ময়দানে এক চাঞ্চল্যকর পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। সংবেদনশীল এই এলাকায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীই নয়, এবার যোগী সরকারের তথাকথিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ এবং বিতর্কিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ‘সিংঘম’ হিসেবে পরিচিত এই অফিসারের নিয়োগ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়।
পর্যবেক্ষকের নামে ‘এজেন্ট’ পাঠিয়েছে বিজেপি: অখিলেশ যাদব
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পর্যবেক্ষকের নামে রামপুর ও সম্ভল থেকে নিজেদের যাচাই করা এজেন্টদের পাঠিয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না। এখানে দিদি আছেন, দিদিই থাকবেন!” অখিলেশ আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সময় এলে এই ‘এজেন্ডা এজেন্টদের’ সমস্ত অপরাধমূলক কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে এবং তাঁদের আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। গণতন্ত্রের অপরাধীদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
অজয় পালের অতীত রেকর্ড নিয়ে সরব তৃণমূল
অজয় পাল শর্মার নিয়োগ নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূলের অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিতর্কিত এই অফিসার নিজের ‘ঠোক দো’ (গুলি করো) মনোভাবের জন্য কুখ্যাত। তৃণমূলের দাবি, অজয় পালের এনকাউন্টারগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল সাজানো এবং শুধুমাত্র সরকারকে খুশি করার জন্য করা। উল্লেখ্য, রামপুরের এসপি থাকাকালীন তিনি সমাজবাদী পার্টির দাপুটে নেতা আজম খানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
অতীতের কলঙ্ক ও তদন্ত
অজয় পাল শর্মার কর্মজীবন নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল:
- টাকা নিয়ে পোস্টিং: ২০২০ সালের জানুয়ারিতে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে টাকা নিয়ে পছন্দের জায়গায় পদায়ন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর তাঁকে রামপুর থেকে উন্নাওয়ের পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলি করা হয়। এই ঘটনায় যোগী সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল।
- ব্যক্তিগত জীবনে অভিযোগ: এক ৩০ বছর বয়সী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ ধ্বংস এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল। ওই মহিলার দাবি ছিল, অজয় পাল তাঁর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক গোপন করে বিয়ে করেন এবং পরে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।
তৃণমূলের কটাক্ষ, নির্বাচন কমিশন কি তবে বাংলায় এমন পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরই পছন্দ করছে যাঁদের অতীত রেকর্ড দুর্নীতি ও অপরাধে ভরা? অজয় পালের নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিরোধী শিবির।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীন মানব দাস।