২৩০ আসন নিয়ে সরকার গড়বে তৃণমূলই! প্রচারের শেষ বেলায় বিজেপিকে ‘টাটা বাই-বাই’ জানালেন অভিষেক

২৩০ আসন নিয়ে সরকার গড়বে তৃণমূলই! প্রচারের শেষ বেলায় বিজেপিকে ‘টাটা বাই-বাই’ জানালেন অভিষেক

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে বড়সড় ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মহেশতলার জনসভা থেকে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, এবার ২৩০টি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিনেই বিজেপির ‘রিটার্ন টিকিট’ পাকা হয়ে যাবে বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সেনাপতি।

কোন অঙ্কে ২৩০ আসন?

প্রথম দফার ভোটের পরেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাঁরা ১০০-র বেশি আসন পার করে গিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অভিষেকের দাবি, তৃণমূলের ঝুলিতে আসবে ২০০-র বেশি আসন। আর সোমবার প্রচারের একেবারে শেষ মুহূর্তে তিনি সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৩০-এ নিয়ে গেলেন। অভিষেকের মতে, গত ২৪ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালানোর সময় মানুষের যে অভূতপূর্ব উন্মাদনা তিনি দেখেছেন, তাতে ২৩০টি আসন পাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।

এসআইআর (SIR) ও মানুষের দুর্ভোগ: তৃণমূলের হাতিয়ার

নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম রাখতে গিয়ে যে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, তাকেই বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র করেছে তৃণমূল। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, গত ৪ নভেম্বর থেকেই তাঁরা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ৮৫ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সে আসা অসুস্থ রোগীদেরও যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ দিতে হয়েছে, তা বাংলার মানুষ মেনে নেয়নি। মানুষের এই সংক্ষুব্ধ আশীর্বাদই তৃণমূলের জয়ের পথ প্রশস্ত করবে বলে দাবি তাঁর।

মোদিকে প্রশ্ন: ‘হাসিনার পাসপোর্ট কোথায়?’

প্রচারের শেষ দিনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। বিজেপি যখন বাংলায় কথা বলা মানুষদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে আক্রমণ করছে, তখন অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনাকে নিয়ে। তিনি বলেন, “২০ মাস ধরে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন মোদি। হাসিনা কি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? তাঁর পাসপোর্ট-ভিসা কোথায়?” মহেশতলার সভায় যখন এই প্রশ্ন ছুড়ছেন অভিষেক, তখন গোটা এলাকা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

২৯-এর লক্ষ্যে বাংলা থেকে শুরু লড়াই

অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই বিধানসভা নির্বাচন কেবল রাজ্যের নয়, বরং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেরও ভিত্তিপ্রস্তর। তাঁর কথায়, “বাংলা থেকেই দেশের নতুন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপিকে দেশ থেকে উপড়ে ফেলব।”

আগামীকাল ২৯ এপ্রিল ১৪২টি কেন্দ্রে শেষ দফার ভোটগ্রহণ। আর ৪ মে জানা যাবে অভিষেকের এই ‘২৩০ আসনের অঙ্ক’ কতটা বাস্তবোচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *