বাংলায় উন্নয়নের ‘যোগী মডেল’ নিয়ে প্রচার, অথচ নিজের রাজ্যেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ!

বাংলায় উন্নয়নের ‘যোগী মডেল’ নিয়ে প্রচার, অথচ নিজের রাজ্যেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যখন জেলায় জেলায় ঘুরে তাঁর রাজ্যের ‘উন্নয়ন মডেল’ এবং সুশাসনের খতিয়ান তুলে ধরছেন, ঠিক সেই সময়ই তাঁর নিজের রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার অভিযোগ উঠল। উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ নং ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যোগী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

গাজিপুরে ১৪৪ ধারা ও বিক্ষোভের সূত্রপাত

গাজিপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক মাধ্যম এখন উত্তপ্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সোমবার থেকে গাজিপুরে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও পদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও বিরোধীদের অভিযোগ, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অখিলেশ যাদবের হুঁশিয়ারি: ‘দেখি কে বাধা দেয়’

সমাজবাদী পার্টির একটি প্রতিনিধিদলকে ওই নাবালিকার গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অখিলেশ যাদব। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “বুধবার আমি নিজে ওই মৃতার পরিবারে কাছে যাব। দেখি আমাকে কে বাধা দেয়।” অখিলেশের মতে, গাজিয়াবাদ থেকে গাজিপুর— সর্বত্রই কৃষক সংকট ও দলিতদের ওপর অত্যাচার চরমে পৌঁছেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে উত্তরপ্রদেশে প্রতিবাদ করার নূন্যতম অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অখিলেশ দীর্ঘকাল ধরেই দাবি করে আসছেন যে যোগী জমানায় ‘পিডিএ’ (পিছড়ে-দলিত-অল্পসংখ্যক) গোষ্ঠী চরম বিপদে রয়েছে।

রাহুল গান্ধীর তোপ: ‘হাতরাস থেকে গাজিপুর’

এই ঘটনায় যোগী সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধীও। তিনি জানান, মৃত নাবালিকা বিশ্বকর্মা সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। রাহুলের কথায়, “হাতরাস থেকে গাজিপুর— যোগী আদিত্যনাথের আমলে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির নাবালিকাদের ওপর অত্যাচার একটি ভয়াবহ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, সরকার একটি ঘটনারও সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি, বরং প্রতিবারই অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলার প্রচারে প্রভাব

যখন উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজার নীতি’ ও ‘অপরাধমুক্ত রাজ্য’ গড়ার দাবি নিয়ে বিজেপি বাংলায় ভোট চাইছে, তখন গাজিপুরের এই ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। গাজিপুরকে যেভাবে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে এবং কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *