ফলতায় মুখোমুখি ‘সিংঘম’ বনাম ‘পুষ্পা’! পুলিশ পর্যবেক্ষকের কনভয় ঘিরে তৃণমূলের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ তথা নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার কনভয় ঘিরে চলল প্রবল বিক্ষোভ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষকের পথ আটকানোর চেষ্টা করেন। মূলত সোমবার রাতে তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে কড়া ভাষায় সাবধান করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক তরজা
ঘটনার মূলে রয়েছে অজয় পাল শর্মার কড়া অবস্থান এবং তৃণমূলের পাল্টা প্রতিরোধ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান পুলিশ পর্যবেক্ষককে বিজেপির ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ করে নিজেকে সিনেমার চরিত্রের আদলে ‘পুষ্পা’ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিতেই ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং শান্ত ফলতাকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করে দাবি করেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়েই তৃণমূল এখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
মাঠে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নজরদারি
এদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ করেন অজয় পাল শর্মা। বিশেষ করে গোলমালপ্রবণ ব্যক্তিদের নামের তালিকা নিয়ে খানপাড়া এলাকায় তল্লাশি শুরু করতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভের জেরে পুলিশ পর্যবেক্ষকের কনভয়ের পেছনের গাড়িগুলো কিছুক্ষণের জন্য আটকে পড়ে। এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশন ফলতায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবারে ভোটের দিনে এই উত্তেজনা বড় কোনো সংঘাতের রূপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ফলতায় নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার কনভয় ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।
- সোমবার রাতে তৃণমূল প্রার্থীকে ‘সাবধান’ করা নিয়ে শুরু হওয়া বিবাদ মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়।
- তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হলেও বিজেপি একে ‘ভয়ের রাজনীতি’ বলছে।
- দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তপ্ত ফলতায় শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে কমিশন।