প্রতিশ্রুতিই সার! সোনাগাছির দেড়শো যৌনকর্মীর ভোটাধিকার বিশ বাঁও জলে, কাঠগড়ায় কমিশন

প্রতিশ্রুতিই সার! সোনাগাছির দেড়শো যৌনকর্মীর ভোটাধিকার বিশ বাঁও জলে, কাঠগড়ায় কমিশন

রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, অথচ তার আগেই চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে উত্তর কলকাতার সোনাগাছি এলাকায়। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অর্জিত ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে প্রায় দেড়শো যৌনকর্মী ও তাঁদের পরিবারের। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগে একাধিক আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।

আশ্বাস বনাম বাস্তব পরিস্থিতি

সোনাগাছির প্রায় ২১০০ যৌনকর্মীর ভোটার ফর্ম পূরণে জটিলতা তৈরি হলে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটিসহ একাধিক সংগঠন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই সময় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, নথিপত্রের অভাব থাকলেও বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের নাম তালিকায় তোলা হবে। তবে ভোটের চূড়ান্ত মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও এবং শুনানিতে অংশ নেওয়ার পরেও অনেকের নাম তালিকায় ওঠেনি।

অধিকার হরণ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনা গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর বড় আঘাত। শ্যামপুকুর বিধানসভার অন্তর্গত এই এলাকায় প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ এবার ভোটদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। ভোটাধিকার হারানো মানে কেবল একটি ভোট নয়, বরং নাগরিক হিসেবে তাঁদের অস্তিত্ব ও সামাজিক পরিচয় পুনরায় সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • সোনাগাছির প্রায় ১৫০ জন যৌনকর্মী ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ভোট দিতে পারছেন না।
  • নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের আশ্বাস সত্ত্বেও তালিকায় নাম ওঠেনি।
  • নথিপত্র জমা দেওয়া এবং শুনানিতে অংশ নেওয়ার পরেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ পড়েছে।
  • ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ব ও সামাজিক পরিচয় নিয়ে যৌনকর্মীরা আতঙ্কিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *