মেধার অপচয় না মানসিক যন্ত্রণা? ১০ দিনের ব্যবধানে আইআইটি খড়গপুরে ফের নিভল এক প্রদীপের শিখা!

দেশের অন্যতম শীর্ষ সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়গপুর আইআইটিতে ফের বিষাদের ছায়া। মঙ্গলবার সকালে হস্টেলের রুদ্ধদ্বার কক্ষ থেকে সোহম হালদার (২২) নামে এক এম.টেক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের বাসিন্দা সোহম ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। গত ১৮ এপ্রিল জয়বীর সিং দোদিয়া নামে অপর এক ছাত্রের আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পড়ুয়াদের মানসিক স্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বন্ধ ঘর থেকে নিথর দেহ উদ্ধার
মদন মোহন মালব্য হলের আবাসিক সোহমের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন বন্ধুরা খবর দিলে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করে বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অত্যধিক মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তাঁর ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও ডায়েরি পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
প্রতিযোগিতার চাপ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে খড়গপুর আইআইটিতে পড়ুয়াদের মৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত বছর সাতজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ২০২৬ সালেও পর পর এমন ঘটনা নিরন্তর প্রতিযোগিতার চাপ এবং একাকীত্বের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, মেধাবী ছাত্রদের ওপর থাকা এই পাহাড়প্রমাণ মানসিক চাপ নিরসনে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং কাউন্সিলিং পরিষেবাকে আরও জোরালো করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এক ঝলকে
- খড়গপুর আইআইটির এম.টেক ছাত্র সোহম হালদারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার।
- গত ১০ দিনের ব্যবধানে এটি একই ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় আত্মহত্যার ঘটনা।
- ২০২৪ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ধারাবাহিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ।
- বারাসাতের মেধাবী এই ছাত্রের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত শুরু।