“আদালতে টেনে আনব, পার পাবেন না!”: পুলিশ পর্যবেক্ষক ও সাসপেন্ডেড ওসি-কে তীব্র হুঁশিয়ারি মমতার

“আদালতে টেনে আনব, পার পাবেন না!”: পুলিশ পর্যবেক্ষক ও সাসপেন্ডেড ওসি-কে তীব্র হুঁশিয়ারি মমতার

ভোটগণনার ঠিক আগের দিন দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে গিয়ে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একদিকে যেমন তিনি সাসপেন্ড হওয়া ওসির বিরুদ্ধে সরব হলেন, তেমনই কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন ভিনরাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও।

সাসপেন্ডেড ওসি গৌতম দাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

কালীঘাটের সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাসকে নিয়ে বৈঠকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে ওই পুলিশ আধিকারিক ভোট চলাকালীন মহিলা এবং শিশুদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালিয়েছেন। তাঁর কথায়, “শিশু এবং মহিলাদের গায়ে হাত দিয়েছেন গৌতম দাস, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” উল্লেখ্য, নির্বাচনের মাঝপথেই কর্তব্যে গাফিলতি ও অন্যান্য অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কালীঘাটের ওসি-কে সাসপেন্ড করেছিল।

পুলিশ পর্যবেক্ষকদের প্রতি চরম বার্তা

বৈঠকে কেবল নিচুতলার পুলিশ কর্মী নয়, মমতার নিশানায় ছিলেন ভিনরাজ্যের আইপিএস অফিসাররা, যাঁরা এ রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, “ভোট মিটে গেলে উত্তরপ্রদেশ বা অন্য কোনও রাজ্যে পালিয়ে গিয়েও পার পাবেন না পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। প্রত্যেককে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। সকলকে আদালতে টেনে আনা হবে।” পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূল যে ক্ষুব্ধ, নেত্রীর এই মন্তব্যেই তা স্পষ্ট।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, নির্বাচনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল যে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে, মমতা এদিন সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন। বিশেষ করে কমিশন যেভাবে একের পর এক পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে এবং বাইরের রাজ্যের পর্যবেক্ষকদের দিয়ে ভোট পরিচালনা করেছে, তা নিয়ে শাসক দল শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছিল।

আদালতের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক উত্তাপ

গণনার আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর এই ‘দেখে নেব’ হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ ও ‘পুলিশের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এবং কর্মীদের পাশে থাকতেই এই কড়া বার্তা দিয়েছেন নেত্রী।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *