আজ মহাগণনা: ‘যুদ্ধ’ শেষে ভাগ্যপরীক্ষা বাংলার, কড়া নিরাপত্তায় ইভিএম বন্দি ৮ হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আজ সোমবার, ৪ মে। দীর্ঘ ৫০ দিনের টানটান উত্তেজনা, রাজনৈতিক লড়াই আর প্রশাসনিক ‘তুঘলকি’র অবসান ঘটিয়ে আজই জানা যাবে কার হাতে যাচ্ছে বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের শাসনভার। গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির মোট ৮২৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভাগ্যপরীক্ষা হয়েছে ৮ হাজার ৯০৪ জন প্রার্থীর। তবে গোটা দেশের নজরে আজ শুধুই বাংলা। কারণ, এ বারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা বনাম কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রশক্তির মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় বজ্র-আঁটুনি
নির্বাচন কমিশন এ বার গণনা প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রেই মোতায়েন করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়।
- প্রথম স্তর: মূল কেন্দ্রের প্রবেশপথে থাকছে রাজ্য পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী ও সার্জেন্ট।
- দ্বিতীয় স্তর: পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসেনার যৌথ পাহারা।
- তৃতীয় স্তর: স্ট্রং রুমের ঠিক বাইরে সবথেকে সুরক্ষিত স্তরে মোতায়েন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে বিএনএসের ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। কোনো জমায়েত বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা চত্বর। এ বার কাউন্টিং এজেন্টদের পরিচয়পত্রে কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্যান করার পরেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের পর কাউকে আর কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
গণনা প্রক্রিয়া ও নতুন নিয়ম
আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনা। নিয়ম অনুযায়ী:
- সকাল ৮টা: প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে স্ট্রং রুমের সিল খোলা হবে এবং পোস্টাল ব্যালটের গণনা শুরু হবে।
- সকাল ৮টা ৩০ মিনিট: ইভিএম-এর কন্ট্রোল ইউনিট থেকে গণনা শুরু।
- যাচাই ও ঘোষণা: প্রতি রাউন্ডের শেষে ফল প্রথমে ট্যাবুলেশন টেবিলে যাবে। সেখানে রিটার্নিং অফিসার ও অবজার্ভারের সই এবং নির্বাচন কমিশনের ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার পরেই পরবর্তী রাউন্ডের কাজ শুরু হবে। প্রতিটি রাউন্ডের ফল কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।
নজরে বাংলার ২৯৩ আসন
পশ্চিমবঙ্গের ২ হাজার ৯২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে আজ ভাগ্য নির্ধারিত হবে ২৯৩ জনের। ফলতা কেন্দ্রে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন থাকায় সেখানকার ফলাফল আজ স্থগিত থাকছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর (SIR)-এর নামে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি এবং প্রশাসনিক রদবদলের পর বাংলার মানুষ কাকে বেছে নেন, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের সর্বশক্তি প্রয়োগ, অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার লড়াই—কে কুর্নিশ পায় আজ, সেটাই দেখার।
অন্যান্য রাজ্য ও উপনির্বাচন
বাংলার পাশাপাশি আজ আসাম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির ফলও প্রকাশিত হবে। এ ছাড়াও কর্ণাটক, ত্রিপুরা, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, গোয়া ও নাগাল্যান্ডের বেশ কিছু বিধানসভা উপনির্বাচনেরও গণনা রয়েছে আজ। কমিশন সূত্রে খবর, গণনা প্রক্রিয়ার জটিলতা ও স্ক্রিনিং-এর কড়াকড়ির কারণে পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে সম্ভবত সবথেকে দেরি হতে পারে।
আজকের দিনটি কেবল সংখ্যার বিচার নয়, বরং আগামী পাঁচ বছরের জন্য ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের এক নতুন ইঙ্গিত হতে পারে। উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।