‘বাংলার পরেই দিল্লি’! চতুর্থবার জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে মোদি-শাহদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার

কলকাতা: ‘লড়ছে বাংলা, জিতবে বাংলা’—এই স্লোগানকে পাথেয় করেই আজ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার সকালে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। চতুর্থবার নবান্ন দখলের বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত হয়েই তিনি জানিয়ে দিলেন, বাংলার এই জয় কেবল শুরু, এর পরবর্তী লক্ষ্য হলো দিল্লির মসনদ। গেরুয়া শিবিরকে বাংলা থেকে হটিয়ে এবার জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের পথ দেখাবে এই রাজ্যই।

কর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

রবিবার অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটগণনার সময় বিজেপি ‘ইভিএম কারচুপি’ বা ‘লোডশেডিং’ ঘটিয়ে ফল পাল্টানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই গণনাকেন্দ্রে থাকা কাউন্টিং এজেন্টদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই ছাড়লে চলবে না। ইভিএম বদল বা প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে কোনও গরমিল হচ্ছে কি না, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।”

বিজেপির পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী

বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “গেরুয়া উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে যাঁরা বাংলার মানুষের চোখের জল ফেলেছে, আজ তারা যোগ্য জবাব পাবে।” তাঁর দাবি, আজ কেবল ইভিএম খোলা সময়ের অপেক্ষা, ফলাফল বেরোলে দেখা যাবে তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরছে। আধাসেনা দিয়ে ভয় দেখিয়ে বা গণনা প্রক্রিয়া ধীর করে দিয়ে কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।

মিশন দিল্লি: পরবর্তী গন্তব্য রাজধানী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মহলে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এদিনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর নজর থাকবে দিল্লির দিকে। তিনি মনে করেন, বাংলার এই ফলাফল সারা দেশের বিজেপি-বিরোধী শক্তির কাছে অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে। “বাংলাই পথ দেখাবে,”—এই মন্ত্রেই আজ থেকে দিল্লির মসনদ থেকে বিজেপিকে সরানোর নতুন লড়াই শুরু করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

অভিষেকের ‘ওয়ার রুম’ ও ছাত্র-যুবদের জমায়েত

দলনেত্রীর নির্দেশের পরেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই জেলা স্তর ও রাজ্য স্তরে ‘ওয়ার রুম’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের বাইরে তৃণমূলের ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনের কর্মীদের জমায়েত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বা অন্য কোনও পক্ষ থেকে কাউন্টিং এজেন্টদের ওপর জোরজুলুম করা হলে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, মহাগণনার সকালেই নবান্ন পেরিয়ে দিল্লির পথে পা বাড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। এখন দেখার, ইভিএম শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেয়।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *