বাংলাজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া নাকি ঘাসফুলের প্রত্যাবর্তন! কড়া টক্করে বিজেপি ও তৃণমূল

বাংলাজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া নাকি ঘাসফুলের প্রত্যাবর্তন! কড়া টক্করে বিজেপি ও তৃণমূল

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই চলছে। কিছু ক্ষেত্রে গেরুয়া শিবির ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিলেও, গ্রামীণ বাংলার বুথগুলোতে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান লড়াইকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তীব্র টক্করে ভবানীপুর ও শহরের নজরকাড়া আসনগুলো

গণনার শুরু থেকেই সবার নজর রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। হাই-প্রোফাইল এই কেন্দ্রে দুই শিবিরের লড়াই এখন ধুঁয়াধার পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু ভবানীপুর নয়, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিজেপির উত্থান নজর কাড়ছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে গত লোকসভা নির্বাচনের ধারা বজায় রেখে বিজেপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, দক্ষিণবঙ্গের গ্রামীণ জেলাগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেস কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

ফলাফলের নির্ধারক যখন নারী সুরক্ষা ও জনকল্যাণ প্রকল্প

এবারের নির্বাচনে প্রধান দুটি ইস্যু ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আরজি কর কাণ্ড এবং কসবা ল কলেজের মতো ঘটনাগুলোর প্রভাবে নারী নিরাপত্তা ইস্যুটি বিজেপির বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহুরে ভোটারদের মধ্যে এই ক্ষোভের প্রতিফলন ব্যালট বাক্সে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

বিপরীতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুরুপের তাস ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলো গ্রামীণ নারী ভোটারদের তৃণমূলের পাশে ধরে রাখার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা এবং রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটদান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর নাকি জনমুখী প্রকল্পের সাফল্য—বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *