গণনা শেষ হওয়ার আগেই উৎসব! সদর দফতরে ভিয়েন বসিয়ে ভোজের মহাধুম

বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা নিয়ে যখন কোটি কোটি মানুষ উৎকণ্ঠায় মেপে চলছেন প্রতি মুহূর্তের হিসাব, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজ ধরা পড়ল গেরুয়া শিবিরের সদর দফতরে। ৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার সকালেই বঙ্গ বিজেপির দফতরে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের আমেজ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ যখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে, বিজেপি তখন আগাম জয়ের বিষয়ে এতটাই নিশ্চিত যে, সকাল থেকেই দফতরে বসেছে রান্নার বিশাল আয়োজন।
বিশাল ভিয়েন ও উৎসবের মেজাজ
ভোটের ফল ঘোষণার প্রাথমিক ট্রেন্ড আসার আগে থেকেই বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দফতরে কর্মীরা বিজয় উৎসবে মেতেছেন। প্রচার পর্বে বিরোধীদের করা নানা কটাক্ষকে উপেক্ষা করেই সদর দফতরে বিশাল কড়াইতে লুচি ভাজার ধুম পড়েছে। সঙ্গে রয়েছে নানা পদের মিষ্টি। মূলত কর্মী-সমর্থকদের জন্য এই এলাহি ভোজের আয়োজন করা হলেও, একে এক প্রকার শক্তি প্রদর্শন ও চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন জেলাতেও পদ্মফুলের ছাপ দেওয়া মিষ্টির আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছেন উৎসাহী কর্মীরা।
লড়াই ও প্রভাবের নেপথ্যে
এবারের নির্বাচনে বাংলার মসনদ দখল করা বিজেপির জন্য ছিল এক মর্যাদার লড়াই। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আক্রমণ বনাম বাঙালির অস্মিতার প্রশ্ন— এই দুই মেরুকরণের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দিকে ঝুঁকলেন, তা নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া। একদিকে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি নারী ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করেছে, তা এই ফলের ওপর নির্ভর করছে। সকালের গণনায় পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় গেরুয়া শিবিরের এই উচ্ছ্বাস তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত এই উৎসবের স্থায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েই যাচ্ছে।