ভাঙড়ে নওশাদের গড় কি টলমল, শওকাত ঝড়ে প্রাথমিক গণনায় ব্যাকফুটে ‘ভাইজান’

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার শুরুতেই বাংলার অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভাঙড়ে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই বিতর্কিত জনপদে প্রাথমিক রাউন্ডের গণনা শেষে পিছিয়ে পড়েছেন আইএসএফ (ISF) প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা শওকাত মোল্লা প্রাথমিক গণনায় বড় ব্যবধানে লিড নিয়ে নওশাদকে চাপে ফেলে দিয়েছেন।
২০২১ সালের নির্বাচনে ভাঙড়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকী বিধানসভায় আইএসএফ-এর একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যে চমক দিয়েছিলেন, এবারের প্রাথমিক চিত্র তার থেকে অনেকটাই বিপরীত। যদিও ভোট গণনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও শুরুতেই শওকাত মোল্লার এই দাপট রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
সংখ্যালঘু ভোট ও সাংগঠনিক লড়াই
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড়ের এই ফলের নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের ব্যাপক মেরুকরণ এবং দ্বিতীয়ত, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকাত মোল্লার ব্যক্তিগত সাংগঠনিক দক্ষতা। ভাঙড় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব যে শওকাতের ওপর ভরসা রেখেছিল, ইভিএম গণনার শুরুতেই তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে থেকেই এই এলাকা দখল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল ভাঙড়, যার প্রভাব ব্যালট বক্সে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রত্যাবর্তনের আশায় আইএসএফ শিবির
প্রাথমিক রাউন্ডে পিছিয়ে পড়ায় আইএসএফ শিবিরের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও দলের নেতৃত্ব হাল ছাড়তে নারাজ। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, এখনও গ্রামীণ এলাকার অনেক বুথের গণনা বাকি রয়েছে। তাঁদের মতে, সেই সব অঞ্চলের ইভিএম খোলা শুরু হলে নওশাদ সিদ্দিকী ফের বড় ব্যবধানে কামব্যাক করবেন এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের মুকুট তাঁর মাথাতেই উঠবে।
আপাতত ভাঙড় জুড়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেলেও গণনা কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বজায় রেখেছে প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত ‘ভাইজান’ ম্যাজিক কাজ করবে নাকি শওকাতের দাপটে নওশাদের গড় ধূলিসাৎ হবে, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে পুরো রাজ্যে।