তৃণমূলের দুর্গে গেরুয়া ঝোড়ো হাওয়া, হেভিওয়েটদের হারিয়ে জয়ী বিজেপির তারকারা!

তৃণমূলের দুর্গে গেরুয়া ঝোড়ো হাওয়া, হেভিওয়েটদের হারিয়ে জয়ী বিজেপির তারকারা!

বাংলার চিরাচরিত রাজনৈতিক সমীকরণ কার্যত ওলটপালট করে দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপির তারকা প্রার্থীরা। টালিগঞ্জ থেকে যাদবপুর, শিবপুর থেকে শ্যামপুর—তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের হারিয়ে ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে ইতি টেনেছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও রুদ্রনীল ঘোষরা। এই জয় কেবল সংখ্যাতত্ত্বের বিচারেই নয়, বরং রাজনৈতিক বিন্যাসে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

টালিগঞ্জ ও যাদবপুরে বড় চমক

সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটেছে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে। দীর্ঘ দুই দশকের ‘বিশ্বাসী’ গড় ভেঙে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অরূপ বিশ্বাসকে ৬,০১৩ ভোটে পরাজিত করেছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ার দীর্ঘদিনের একচেটিয়া রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নের মুখে পড়ল। অন্যদিকে, বাম রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যাদবপুরেও জয়ের হাসি হেসেছেন বিজেপির শর্বরী মুখোপাধ্যায়। সিপিআই-এর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদারকে হারিয়ে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জনমতের অভিমুখ অনেকটাই বদলেছে।

জেলায় জেলায় পদ্ম-শিবিরের বিস্তার

হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে ১৬,০৫৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। গত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে এবার শিবপুরের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা রুদ্রনীল বড় সাফল্য পেলেন। একইভাবে শ্যামপুরে তৃণমূলের নদেবাসী জানাকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ। অন্যদিকে, সোনারপুর দক্ষিণে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধান ছিল নজরকাড়া; তিনি ৩৫,৭৮২ ভোটে জয়ী হয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন অগ্নিমিত্রা পল।

পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের মূলে রয়েছে শাসক শিবিরের প্রতি স্থানীয় স্তরে গড়ে ওঠা ক্ষোভ এবং তারকা প্রার্থীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল। তারকাদের গ্ল্যামার আর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এই দুয়ের মিশেলে মধ্যবিত্ত ও মহিলা ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপিমুখী হয়েছে। বিশেষ করে সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোলের মতো এলাকায় মহিলা ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিজেপির এই জয়ের পথ সুগম করেছে। এই ফলাফলের ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে শাসক দলের ওপর যেমন চাপ বাড়বে, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *