রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ আর চাঁদের হাট ব্রিগেডে, ৮ তারিখ বিকেলেই জানা যাবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হতে চলেছে। আগামী ৯ই মে, অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখ কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গেরুয়া শিবির কার্যত বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের গভীর একাত্মতার বার্তা দিতে চাইছে।
নেতা নির্বাচনে বসছে বিধায়ক দল
রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে আগামী ৮ই মে, শুক্রবার। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ওই দিন বিকেল ৪টের সময় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার দলনেতা তথা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে। সরকার গঠনের এই চূড়ান্ত প্রক্রিয়া তদারকি করতে বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই সিলমোহর পড়বে নতুন নামটিতে।
চাঁদের হাট বসবে ব্রিগেডে
৯ই মে সকাল ১০টায় আয়োজিত এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতায় চাঁদের হাট বসতে চলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি শাসিত ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে শহরে আসছেন। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির আবেগের দিন বলেই এই শুভ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সাংস্কৃতিক কৌশলে শান গেরুয়া শিবিরের
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনটিকে শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নেওয়া বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে, তা ঘুচিয়ে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রকৃত ধারক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরাই এখন দলের লক্ষ্য। ঐতিহ্যের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এবং রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন—এই জোড়া সংযোগকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চায় যে, তারা বাংলার মাটিরই দল। এই পরিবর্তনের ঢেউ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল সংস্কার আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন শুধু ৮ তারিখ বিকেলের অপেক্ষা, যখন নির্ধারিত হবে কার মাথায় উঠছে বিজয়ের মুকুট।