চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড! এখনই সিবিআই নয় বরং রাজ্য পুলিশের তদন্তেই আস্থা শুভেন্দুর

মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নাটকীয় মোড় এল। বুধবার রাতের সেই নৃশংস ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে সিবিআই তদন্তের জোরালো দাবি উঠলেও, আপাতত রাজ্য পুলিশের ওপরেই আস্থা রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি তোলা হলেও বিরোধী দলনেতা মনে করছেন, পুলিশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
তদন্তে গতি ও পুলিশের তৎপরতা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা সরেজমিনে তদন্তের তদারকি করছেন। বারাসাত পুলিশ জেলার সুপার পুষ্পা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘাতকদের শনাক্ত করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করেছেন। যদিও গাড়িটিতে ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবুও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এখন পুলিশের হাতে। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, পুলিশ ইতিবাচক পদক্ষেপ করছে বলেই তিনি এখনই অন্য কোনো সংস্থার তদন্ত চাইছেন না।
পরিকল্পিত খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগসূত্র
প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, চন্দ্রনাথকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। জানা গেছে, ঘাতকরা গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় রেইকি বা নজরদারি চালিয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী এই খুনের পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নির্দিষ্ট কারও নাম নিতে নারাজ তিনি। পুলিশের কাজের ওপর নজর রাখতে এবং নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখতে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের জেরে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী দুজনেই দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিএম ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সুজন চক্রবর্তী ও শুভঙ্কর সরকারের মতো বিরোধী নেতারা এই ঘটনাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।