বিকেলে স্কুল না কি অনলাইন ক্লাস? ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার

বিকেলে স্কুল না কি অনলাইন ক্লাস? ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার

দেশজুড়ে ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে তাপপ্রবাহ। এপ্রিল মাস শেষ হতে না হতেই দেশের একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা উপরে উঠে গিয়েছে। এই অসহনীয় গরমে ছোটদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে দিল্লি, গুজরাট ও ওড়িশার মতো রাজ্যগুলো ইতিমধ্যে লম্বা গরমের ছুটির ঘোষণা করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।

বিকল্প পঠনপাঠন ও সরকারি ভাবনা

এ বছর গরমের ছুটির ধরনে বড়সড় রদবদল আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন সরকার গঠনের আবহে শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ছুটির বদলে পঠনপাঠন সচল রাখার বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। তীব্র দাবদাহের কারণে স্কুল বন্ধ থাকলেও পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্ষতি এড়াতে অনলাইন ক্লাসের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, দুপুরের প্রখর রোদ এড়াতে ক্লাস সকালে বা বিকেলের দিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। মূলত সিলেবাস শেষ করা এবং শিক্ষার মান বজায় রাখাই প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যান্য রাজ্যের চিত্র ও সম্ভাব্য প্রভাব

গুজরাটে ৪ মে থেকে টানা ৩৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ায় ১১ মে থেকে প্রায় ৫০ দিনের ছুটির পরিকল্পনা রয়েছে। ওড়িশা ইতিমধ্যে ২৭ এপ্রিল থেকে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গের ওপরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকলে ছাত্রছাত্রীদের শিখন পদ্ধতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ছুটির মেয়াদ বাড়লে বা পরিবর্তিত সময়সূচী কার্যকর হলে তা যেমন একদিকে শিশুদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করবে, অন্যদিকে ডিজিটাল মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার নতুন অভ্যাস তৈরি করবে। এখন দেখার, প্রশাসন ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিক্ষার নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে ঠিক কোন পথে হাঁটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *