শুভেন্দুর সহকারী খুনে পেশাদার ঘাতক বাহিনী! নকল নম্বর প্লেট ও ১০ রাউন্ড গুলিতেই ছক কষল আততায়ীরা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/06/suvendu-adhikaris-pa-shot-dead-in-west-bengal-2026-05-06-23-56-05.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস খুনের তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো অপেশাদার অপরাধী নয়, বরং অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এবং পেশাদার কোনো গ্যাং এই অপারেশনের নেপথ্যে রয়েছে।
নিখুঁত পরিকল্পনা ও তথ্য লোপাটের চেষ্টা
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পুরোপুরি ‘কোল্ড ব্লাডেড মার্ডার’। আততায়ীরা যে গাড়িটি ব্যবহার করেছিল, তার নম্বর প্লেটটি ছিল ভুয়া। শুধু তাই নয়, অপরাধের পর গাড়িটি শনাক্ত করা যাতে আসাম্ভব হয়ে পড়ে, সেজন্য অত্যন্ত সচেতনভাবে গাড়ির চেসিস নম্বর ঘষে মুছে ফেলা হয়েছে। মূলত ফরেনসিক তদন্তকে বিভ্রান্ত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘাতকরা অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি চন্দ্রনাথ বাবুর বুকে বিঁধে যায়।
যেভাবে চলল অপারেশন
বুধবার রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ বাড়ির ঠিক ১০০ মিটার দূরে একটি নির্জন মোড়কে হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়। চন্দ্রনাথ বাবুর গাড়িটি গলিতে ঢোকা মাত্রই একটি চারচাকা গাড়ি আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে তাঁর পথ আটকায়। এরপরই মোটরসাইকেলে চড়ে আসা টুপি পরা এক আততায়ী খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদী গুলি চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পালানোর পথটিও ছিল পূর্বপরিকল্পিত। মূল রাস্তা এড়িয়ে নির্জন গলি দিয়ে ঘাতকরা দ্রুত এলাকা ছাড়ে।
তদন্তে স্পেশাল টিম ও সম্ভাব্য প্রভাব
বারাসাত জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই অপরাধীদের রুট ম্যাপ তৈরি করেছেন। এই ঘটনায় কোনো আন্তঃরাজ্য অপরাধী চক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন হেভিওয়েট নেতার ব্যক্তিগত সহকারীর এমন নিখুঁত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের ধারণা, খুনিরা দীর্ঘ সময় ধরে চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধির ওপর নজরদারি বা ‘রেইকি’ চালিয়েছিল। আপাতত এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।