মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগে অনীহা, সাংবিধানিক জটিলতা কাটাতে কী ভূমিকা নেবেন রাজ্যপাল!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগে অনীহা, সাংবিধানিক জটিলতা কাটাতে কী ভূমিকা নেবেন রাজ্যপাল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে রাজ্য। ৪ মে ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি রেকর্ড জয় পেলেও এবং তৃণমূল কংগ্রেস শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন। নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন, যা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে চরম অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজ্যপালের ভূমিকা ও আইনি পথ

বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিষেন কৌল গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মেয়াদ ৭ মে শেষ হতে চলেছে। সাধারণত গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত কেয়ারটেকার বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় রাজ্যপাল এখন স্বকীয় ক্ষমতাবলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। রাজ্যপাল চাইলে প্রচলিত রীতি মেনে তাঁকে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার অনুরোধ করতে পারেন, অথবা এক বা দুই দিনের জন্য অন্য কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

অচলাবস্থার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই রাজনৈতিক সংঘাতের মূলে রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর পরাজয় মানতে না চাওয়ার জেদ। তাঁর দাবি, প্রায় ১০০টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এমনকি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তাঁকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন। এই অনড় অবস্থানের কারণে সরকার গঠনে বিলম্ব হতে পারে, যা প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা তৈরির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কোনো সরকারি ফাইল নড়াচড়া না করা হয়। অন্যদিকে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রেখেছে। প্রাক্তন বিচারপতি কৌল এই পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন আইনি লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *