দীঘার মন্দিরে আর থাকছে না ধাম শব্দবন্ধ, নাম বদল নিয়ে বাড়ছে প্রশাসনিক তৎপরতা

দীঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক এবার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। মন্দিরের নামের সাথে যুক্ত ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে ফেলার দাবিতে ওড়িশার রাজপরিবার থেকে শুরু করে বিজেপি নেতৃত্ব ও পুরীর সেবায়েত সমাজ সরব হয়েছে। ওড়িশা ও বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এই নামবদল এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ঐতিহ্য রক্ষা বনাম নামকরণ বিতর্ক
২০২৫ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই দীঘার এই মন্দিরটি ‘জগন্নাথ ধাম, দীঘা’ নামে পরিচিতি পায়। তবে এই নামকরণের কড়া বিরোধিতা করে আসছেন পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব এবং শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েতরা। তাঁদের দাবি, হিন্দুধর্মের পবিত্র চারধামের অন্যতম হলো পুরী, যা অনন্য এবং অদ্বিতীয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে জগন্নাথ মন্দির থাকলেও ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম ব্যবহারের অধিকার কেবল পুরীরই রয়েছে। অন্য কোনো মন্দিরের ক্ষেত্রে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে পুরীর সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতি ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি আগেই চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ওড়িশা বিজেপির সহ-সভাপতি গোলক মহাপাত্র এবং অন্যান্য প্রবীণ নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক স্তরে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ওড়িশা ও বাংলার মধ্যে দীর্ঘদিনের চলা একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। তবে নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত পর্যটন নগরী দীঘার ব্র্যান্ডিং বা পরিচিতিতে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। মূলত ধর্মীয় শাস্ত্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই প্রশাসন এই ‘অ্যাকশন’ বা পদক্ষেপের পথে হাঁটছে।