রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্রাণ গেল শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের, গর্জে উঠলেন শমীক

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্রাণ গেল শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের, গর্জে উঠলেন শমীক

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যজনক মৃত্যুতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ও প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা গভীর ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। চন্দ্রনাথ রথের মতো একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হত্যার মাধ্যমে বিজেপিকে কোনো বিশেষ বার্তা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর?

শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, আগামী দুইদিন পর নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। ঠিক তার আগে এমন একটি ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা হতে পারে না। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীকে কোনো বিশেষ বার্তা দেওয়ার জন্যই কি এই পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে? তিনি অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় দুষ্কৃতী বা শাসকদলের নেতারা জানতেন না, এমন বড় মাপের হত্যাকাণ্ড ঘটা আসাম্ভব। বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম অঞ্চল দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সমাজবিরোধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।

হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের প্রতি বার্তা

বিজেপি রাজ্য সভাপতির কণ্ঠে এদিন কড়া হুঁশিয়ারিও শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, “সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, তবে সে ভুল করছে।” তৃণমূলের ভাষায় বিজেপি কথা বলতে জানে কিন্তু এখনই সেই পথ অনুসরণ করবে না বলে তিনি জানান। রাজ্যে চলমান নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে শান্ত থাকার বার্তা দিলেও শমীক স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের আক্রমণ বিজেপি দীর্ঘক্ষণ সহ্য করবে না।

সীমান্তবর্তী অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা প্রশ্ন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারাসাত-মধ্যমগ্রাম এলাকাটি জাল নথিপত্র তৈরি এবং অনুপ্রবেশকারীদের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে শমীক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে এবং অপরাধীরা প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ভয়মুক্ত হয়ে উঠেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই আসন্ন ব্রিগেড সমাবেশের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। খড়্গপুর সদরের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও এই ঘটনার জন্য রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *